আপনারা এবার বেশি বেশি সন্তান জন্ম দিন, বলেই কাঁদলেন তিনি

আগের সংবাদ

একটি পাসপোর্টের আত্মকথা-২

পরের সংবাদ

গ্যাসের সুপরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করুন

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২৩ , ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২৩ , ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

প্রতি বছর শীত এলেই গ্যাসের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করে। এবারো ব্যতিক্রম নয়। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন, অন্যদিকে রান্নাবান্নার ব্যাপারে গৃহিণীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আর সময়মতো রান্না না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুল ও কর্মজীবীদের অফিস-আদালতে যেতেও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত খবরে বলা হয়- রাজধানীর গোপীবাগ, মোহাম্মদপুর, মিরপুরের ১২ নম্বর, সি ব্লক, ডি ব্লক ও আশপাশের এলাকা, গাবতলী, তেজগাঁও, পান্থপথ, কাঁঠালবাগান, পশ্চিম ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, লালবাগ, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মান্ডা, বাড্ডা এলাকায় তিতাসের পাইপলাইনের গ্যাসের সংকটের প্রায় বছরজুড়েই থাকে। এমন দুর্ভোগ কাম্য নয়। আবাসিকে গ্যাসের চুলা জ¦ালাতে বাসিন্দাদের খরচ এখন দ্বিগুণ হয়েছে। একদিকে তিতাসের গ্যাস বিল নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে; অন্যদিকে বাজার থেকে গ্যাস সিলিন্ডার কিনে প্রতিদিনের কাজ চালাতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে শিল্পকারখানার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশে প্রতিদিন ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২৬৬ কোটি ঘনফুটের কম গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। বাসাবাড়িতে ৬০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে দেয়া হচ্ছে মাত্র ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এতে নাগরিক জীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। কিন্তু কেন এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না- তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির আমদানি মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল। সে কারণে গত বছরের জুলাই থেকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গ্যাসের সংকট কাটাতে সরকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সব লাইনের গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। সরকারের এমন পদক্ষেপে আমরা আশাবাদী হতে চাই। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঞ্চালন লাইনের ত্রæটির কারণে শীত মৌসুমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাস সংকট প্রকট হয়ে উঠছে। সংকীর্ণ পাইপলাইন দিয়ে ক্রমবর্ধমান গ্রাহকের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে শীতে পাইপলাইনে তরল হাইড্রোকার্বন জমেও গ্যাস সরবরাহে বিঘœ ঘটায়- এটিও গ্যাস সংকটের আরেকটি কারণ। রাজধানীর আবাসিক গ্রাহকের ভোগান্তির এসব কারণ চিহ্নিত হয়েছে আগেই। এসব নিয়ে লেখালেখিও হচ্ছে। তারপরও কেন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। দেশে গ্যাসের মজুত অফুরন্ত নয়। অথচ চাহিদা বেড়েই চলেছে। নতুন নতুন সংযোগও দেয়া চলছে। বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে আমাদের গ্যাস ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেমন পাইপলাইনে সরবরাহকৃত গ্যাসের প্রচুর অপচয় ঘটে। এই অপচয় ঠেকাতে মিটার সিস্টেম চালু করা বা এ রকম কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। পরিবহন খাতে অবাধে সিএনজির ব্যবহার চললেও নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসনির্ভরতাও কমছে না। গ্যাসের সংকট উত্তরণে নতুন নতুন কূপ অনুসন্ধান ও খনন করে গ্যাসের মজুত বাড়াতে হবে। গ্যাসের অপচয় রোধ করতে হবে। গ্যাসের সঞ্চালন ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। সর্বোপরি গ্যাসের সাশ্রয়ী ও সুপরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়