গাইবান্ধায় ১৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

গাইবান্ধায় ১৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

আগের সংবাদ
হাটহাজারীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-২

হাটহাজারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

পরের সংবাদ

যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে গাজার এতিম শিশুরা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২৩ , ১:৫১ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০২৩ , ১:৫১ অপরাহ্ণ
অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েল-হামাস চলমান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা।

অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েল-হামাস চলমান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা।

যুদ্ধের তাণ্ডবে বাবা-মাকে হারিয়ে গাজার অনেক শিশুই এখন আহত হয়ে হাসপাতালে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। খবর বিবিসির।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারে কাজ করা চিকিৎসক তানিয়া হাজ হাসান বলেন, গাজার অনেক শিশুরই দেখাশুনা করার মতো পরিবারের কেই বেঁচে নেই। সবাইকে হারিয়ে তারা এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছে।

এই শিশুদের মানসিক স্বাস্থের উপরও একটি বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অনেক শিশুই এখন ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমেদ শাবাত নামের গাজার এক শিশু যুদ্ধে আহত হয়েছে। তার পরিবারের কেউিই আর বেঁচে নেই। শিশুটি উত্তর গাজায় ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে আহত অবস্থায় এসে কাঁদছিলো।

বেইট হানুনে তিন বছর বয়সি ওই শিশুটির বাড়িতে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিমান হামলা চালানো হয়, কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছে শাবাত।

হামলায় আহমেদের শরীরে কাচের টুকরায় আঘাত লাগলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। পরে জানা যায় তার ছোট ভাই ওমরও বেঁচে গিয়েছিল। তাদের চাচা ইব্রাহিম আবু আমশা বেঁচে যাওয়ায় তাদের দুভাইকে পুনরায় একত্রিত করেন।

আহমেদের মতো আরেক শিশু মুনা আলওয়ানও যুদ্ধের কারনে মা-বাবাকে হারিয়েছেন। গাজায় ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে আসার পর দুই বছর বয়সী ওই শিশু ক্রমাগত মা-মা বলে চিৎকার করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার মা বিমান হামলায় মারা গেছেন।

উত্তর গাজার জাবাল আল-রাইস এলাকায় তার বাড়িতে বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মুনাকে টেনে বের করা হয়। নিহত মুনার বাবা-মা, ভাই ও দাদা হামলায় নিহত হয়। তার বাচোখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে, চোয়ালের একদিকে ভেঙ্গে গেছে। পরিবারের সবাইকে হারানো মুনার পাশে হাসপাতালে তার খালা হানা আছেন।

হানা জানান, মুনা আহত হয়ে খুবই কষ্ট পাচ্ছে। সে সবসময় শুধু চিৎকার করতে চাচ্ছে, একটু শব্দ শুনলেও ভয় পাচ্ছে। বিশেষ করে কেউ তার কাছাকাছি আসলে।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের আন নাসের হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছিলেন ১১ বছরের দুনিয়া আবু মেহেসেন। এক পা হারানো মেহেসেন সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো তার ডান পায়ের অবশিষ্টাংশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

হাসপাতালের বিছানায় তাকে বিষণ্ণ দেখাচ্ছিলো। দুনিয়া তার ভাই ইউসুফ এবং ছোট বোনের সাথে একটি বিমান হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে যায়। ওইময় তারা দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-আমাল পাড়ায় তাদের বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। হামলায় বাবা-মা, ভাই বোনের সাথে সে তার ডান পাও হারিয়েছে।

৭ অক্টোবর ইসয়েলি ভূখণ্ডে আক্রমণ চালায় হামাস। এ ঘটনায় এক হাজর দুইশ জন নিহত এবং প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি করে হামাস। পরে ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে গাজায়। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রায় চলমান যুদ্ধে প্রায় ছয় হাজার শিশুসহ পনের হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়