নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৭৫, সবচেয়ে বেশি ঢাকায়

আগের সংবাদ

শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত প্রয়াস জরুরি

পরের সংবাদ

কোর্টে এসেছি বিচার চাইতে: হাত হারানো সেই শিশুটি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২৩ , ১১:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০২৩ , ১১:২৮ অপরাহ্ণ

ওয়ার্কশপের কাজ করতে গিয়ে তিন বছর আগে হাত হারায় ১৩ বছর বয়সী শিশু নাঈম হাসান। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করা হয়। রিটের শুনানিতে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) মায়ের সঙ্গে আদালতে আসে শিশুটি। আদালত জানতে চান, ‘পড়াশোনা করো?’ শিশুটি বলে, ‘পড়ালেখা করি।’ আদালত বলেন, ‘কোথায় এসেছ, জানো?’ তখন শিশুটি বলে, ‘কোর্টে এসেছি।’

আদালত বলেন, ‘কেন এসেছ?’ শিশুটি বলে, ‘বিচার চাইতে।’ তখন আদালতকক্ষে একধরনের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। আদালত শিশুটিকে চকলেট দেন। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত রুলের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, তখন নাঈম হাসানের বয়স ১০ বছর। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেনের পেশা জুতা ব্যবসা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। এসময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা–বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। এই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়েই তার ডান হাতটি মেশিনে ঢুকে যায়। শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় ডান হাতটি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শিশুটির বাবা হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে শিশুটিকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা নিজ কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধান করতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়। আগের ধারাবাহিকতায় আজ রুলের ওপর শুনানি হয়।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন- আইনজীবী অনীক আর হক ও মো. বাকির উদ্দিন ভূইয়া, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তামজিদ হাসান। ওয়ার্কশপমালিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল বারেক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। শুনানি থাকায় শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে আজ আদালতে আসেন।

পরে আইনজীবী অনীক আর হক বলেন, জেলা প্রশাসক সবার বক্তব্য উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। তবে মতামতে অসংগতি রয়েছে। ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য রেখেছেন। এর আগে আদালত শিশুটির বক্তব্যও শোনেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়