সাবেক পুলিশ পরিদর্শক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আগের সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৪ দলের বৈঠক চলছে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ১৪ দল

পরের সংবাদ

শিশুদের সঙ্গে কথা বলুন সুরে সুরে: গবেষণা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩ , ৬:২৭ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩ , ৬:২৭ অপরাহ্ণ
শিশুদের সঙ্গে কথা বলুন সুরে সুরে: গবেষণা

শিশুদের ভাষা শিখতে সাহায্য করার জন্য তাদের সামনে গান গাওয়া অত্যাবশ্যক বলছেন বিজ্ঞানীরা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা প্রথমে আলাদা আলাদা শব্দের পরিবর্তে তাল এবং স্বরের মাধ্যমে ভাষা বোঝে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, গানে গানে কথা বললে শিশুদের তাড়াতাড়ি ভাষা শেখার প্রতি দক্ষতা বাড়ে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিশুরা ছন্দ থেকে অর্থাৎ স্বরের উত্থান এবং পতন থেকে ভাষা শেখে- যেমন নার্সারি ছড়া বা গানে দেখা যায় বর্ণমালার গান।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলটি আরও আবিষ্কার করেছে, শিশুরা প্রায় সাত মাস বয়স না হওয়া পর্যন্ত ধ্বনিগত তথ্য ও কথার ক্ষুদ্রতম শব্দ ও প্রক্রিয়া করতে শুরু করে না। গবেষকরা আরও বলেছেন যে, নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত ফলাফলগুলি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্যক্ত করে, ফোনেটিক তথ্য সাধারণত ভাষা শিক্ষার চাবিকাঠি। তারা বলেছেন, ডিসলেক্সিয়া এবং বিকাশমূলক ভাষা ব্যাধি ধ্বনিগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণে অসুবিধার পরিবর্তে ছন্দ উপলব্ধির সাথে যুক্ত হতে পারে।

এই গবেষণার লেখক কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী অধ্যাপক ঊষা গোস্বামী বলেছেন: “আমাদের গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় সাত মাস পর্যন্ত পৃথক শব্দ চিনতে শিশুদের অসুবিধে হয়। যদিও বেশিরভাগ শিশু বোতল-এর মতো পরিচিত শব্দ চিনতে পারে। তারপর থেকে পৃথক শব্দগুলি ধীরে ধীরে ভাষার ভিত্তি তৈরি করে। অধ্যাপক বলছেন, “অভিভাবকদের যতটা সম্ভব তাদের বাচ্চাদের সামনে গান করা অথবা নার্সারির ছড়ার তালে কথা বলা উচিত কারণ এটি ভাষার শেখার ফলাফলে একটি পার্থক্য আনবে।”

আগে মনে করা হয়েছিল যে, শিশুরা ছোট ছোট শব্দ উপাদানগুলি শিখে এবং শব্দ তৈরি করতে তাদের একত্রিত করে। এটি ঠিক ছিল কিনা তা বোঝার জন্য গবেষকরা ৪, ৭ এবং ১১ মাস বয়সী ৫০ টি শিশুর মস্তিষ্কের কার্যকলাপ রেকর্ড করেছেন। তাদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮টি নার্সারি রাইমের ভিডিও দেখানো হয়েছিলো। শিশুরা কীভাবে মস্তিষ্কে এই তথ্য এনকোড করছে তা ব্যাখ্যা করতে দলটি বিশেষ অ্যালগরিদম ব্যবহার করেছিল।

সেখান থেকেই দেখা যায়, রিদম সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে শিশুরা বুঝতে পারছে, একটি শব্দ কোথায় শেষ হয় এবং পরবর্তী শব্দ কোথায় শুরু হয়। তার ভিত্তিতেই অভিভাবকদের সুরে সুর কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

অধ্যাপক উপাধ্যায় বলছেন, ছন্দ হলো প্রতিটি ভাষার একটি সার্বজনীন দিক যেখানে সমস্ত শিশুরা “এক সেকেন্ডে দুবার শক্তিশালী শব্দাংশসহ একটি শক্তিশালী বীট কাঠামোর সংস্পর্শে আসে। অধ্যয়নটি গোস্বামীর নেতৃত্বে ‘বেবি-রিদম’ প্রকল্পের অংশ, যা ভাষা কীভাবে ডিসলেক্সিয়া এবং বিকাশমূলক ভাষা ব্যাধির সাথে সম্পর্কিত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়