রাজউকের দিনব্যাপী কর্মশালা-ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

আগের সংবাদ

ডায়েট ছাড়াই ১০ কেজি ওজন কমবে মাত্র ১৫ দিনে!

পরের সংবাদ

অস্ত্র নিয়ে সমাবেশ

শাহজাহান ওমরকে শোকজ করেছে অনুসন্ধান কমিটি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩ , ৯:৪৮ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩ , ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
শাহজাহান ওমরকে শোকজ করেছে অনুসন্ধান কমিটি

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সমাবেশ এবং অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে ঝালকাঠি-১ আসনে আলোচিত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে শোকজ করেছে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঝালকাঠি-১ আসনে নির্বাচন কমিশনের গঠন করা নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সদস্য সিনিয়র সহকারী জজ পল্লবেশ কুমার কুণ্ডু এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠানো হবে না, সে মর্মে আগামী (৬ ডিসেম্বর) বুধবারের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কাঁঠালিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিপুল সংখ্যক লোকজন নিয়ে একপাশে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ অন্যপাশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বসিয়ে সমাবেশ করেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির (একাংশের) সভাপতি আব্দুল জলিল মিয়াজী একটি বন্দুক নিয়ে শাহজাহান ওমরের পাশে বসা ছিলেন। বন্দুকটি শাহজাহান ওমরের লাইসেন্স করা বলে জানিয়েছেন ওই বিএনপি নেতা। নির্বাচনী সমাবেশ ও বন্দুক নিয়ে অবস্থানের কারণে ভোটারদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় তিনি সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি আব্দুল জলিল মিয়াজী ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কবিরকে পরিচয় করিয়ে দেন। সমাবেশে কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সিকদার, সাবেক সহ-সভাপতি আবুল বাশার বাদশাসহ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সদ্য বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে কাঁঠালিয়া এসে প্রথম সমাবেশে শাহজাহান ওমর বলেন, কাঁঠালিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগে কোন গ্রুপিং থাকবে না, গ্রুপ থাকবে একটা সেটা হলো শেখ হাসিনা গ্রুপ। শেখ হাসিনা আমার বোন তাঁর হাত শক্তিশালী করার জন্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছি। কাঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বন্দুক নিয়ে সমাবেশে আসা আব্দুল জলিল মিয়াজি বলেন, বন্দুকটি শাহজাহান ওমর সাহেবের লাইসেন্স করা। তিনি কথা বলার সময় বন্দুকটি আমার হাতে দেন। আমি শুধু বন্দুকটি নিয়ে চেয়ারে বসেছিলাম।

অস্ত্র প্রদর্শন এবং অবৈধ সমাবেশের ঘটনা ঘটে থাকলে নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নেছার উদ্দিন। তিনি বলেন ১৮ ডিসেম্বরের পূর্বে কোন প্রার্থী সমাবেশ করতে পারবে না। এ খবর ঢাকা পোস্ট সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সোমবার সন্ধ্যায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাহজাহান ওমরকে শোকজ নোটিশ প্রদান করে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি।

নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সদস্য সিনিয়র সহকারী জজ পল্লবেশ কুমার কুণ্ডু বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোন প্রার্থী সমাবেশ করলে তা আচরণ বিধি লঙ্ঘন। এছাড়া কেউ বৈধ অস্ত্র নিয়ে জনসমাবেশে যোগ দিলে জনমনে ভীতি সৃস্টি করে তাই প্রার্থী মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরের কাছে ব্যাখা চাওয়া হয়েছে। তিনি অথবা তাঁর প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে ব্যাখা প্রদান করবেন।

ঝালকাঠি-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, আজ আমি দীর্ঘদিন পর কাঁঠালিয়া গিয়েছিলাম। আমার আসার খবর পেয়ে অনেক আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতা কর্মী আমার সাথে দেখা করতে আসেন। আমি নির্বাচনী বা অন্যকোন সমাবেশ করিনি শুধু কুশল বিনিময় করেছি। কারো কাছে দোয়া বা ভোটও চাইনি। এছাড়াও লাইসেন্স করা অস্ত্রের কোন অপব্যবহার হয়নি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়