উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

আগের সংবাদ

বাংলার বস্ত্রে পশ্চিমা টানাটানি

পরের সংবাদ

নির্বাচন নিয়ে বিদেশি শক্তির অপতৎপরতা কমেনি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩ , ২:০৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩ , ২:০৪ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ১ নভেম্বর থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। বিগত দুটি নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অনড় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো থেকে শুরুতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করা না হলেও সম্প্রতি কোনো কোনো দেশ থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ দেয়া হচ্ছে সরকারকে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের আবেদনের সময় আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে গত অক্টোবরে নির্বাচন কমিশন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল। আগ্রহীদের ২১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। সিইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার জানান, সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসি আবেদনের সময় বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ সংক্রান্ত আবেদন করেছে। এখন পর্যন্ত ১২টি দেশের পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের আবেদন পেয়েছে ইসি। এর মধ্যে চারটি সংস্থা আছে। এখন পর্যন্ত ৪৪ জন পর্যবেক্ষক/সাংবাদিক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন জানিয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি কূটনীতি ভিয়েনা কনভেশন অনুযায়ী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ১০ জুলাই সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশে ঠিক সেভাবে নির্বাচন হবে। আমাদের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। তাদের কোনো সুপারিশ আছে কিনা আমরা জানতে পেরেছি। প্রায় ১৮০ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে চান তারা এবং কেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পর্যবেক্ষক তো আমরা বলেছি মোস্ট ওয়েলকাম। নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইউরোপ দেশ থেকে আসবেন, নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। পর্যবেক্ষক হিসেবে তাদের যে দায়িত্ব সেভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব পালনে ৪১ ভিয়েনা কনভেনশন নীতিমালা আছে। সেই নীতিমালার মধ্যে বিদেশি কূটনীতিক দায়িত্ব পালন করবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো আপত্তি থাকার প্রশ্ন নেই। বরং ইলেকশন নিয়ে নানা কথা হয়, সে কারণে পর্যবেক্ষক থাকাটা আমরা ওয়েলকাম করি। ইলেকশন অবজার্ভার বিভিন্ন দেশ থেকে আসবেন, অবজার্ভ করবেন, তারা সরজমিন দেখতে পারবেন নির্বাচন কীভাবে হচ্ছে। কাজেই এ নিয়ে বাদানুবাদের কোনো সুযোগ থাকবে না।’
বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিদেশি শক্তির অপতৎপরতা আমরা লক্ষ করছি। নিকট অতীতে এলডিসি সম্মেলনের পর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগামী নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এজেন্সি অপতৎপরতা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য কিন্তু অমূলক নয়। দেশে জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশি-বিদেশি নানা সংগঠন-গোষ্ঠী কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নেয়। বিশেষত পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোয় নির্বাচন প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচন ব্যবস্থাও সম্পন্ন হয় স্বাভাবিক নিয়ম মেনে। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা এবং রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিবেশ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষকে উৎকণ্ঠিত করে তুলেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস স্পষ্ট করেই দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও প্রতিবার তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের আশ্বাস দিয়েছেন।
যদিও ভারত, চীন এবং রাশিয়া নির্বাচনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে। আর জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোও মধ্যপন্থা অবলম্বন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ভিসানীতিসহ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রæতিবদ্ধ।
এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি প্রয়োগের ঘোষণা এসেছে ২২ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকে বিরোধী দল এটিকে সরকারের ওপর চাপ হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করলেও এ ভিসানীতির আওতার মধ্যে তারাও রয়েছে। এর পর পরই নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘দেশবাসী ভোট দিলে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু বিদেশ থেকে নির্বাচন বানচালের কোনো পদক্ষেপ জনগণ মেনে নেবে না। তার দল সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করে। যদি কোনো কারণে নির্বাচন বানচালের কোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যারা উদ্যোগ নেবে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।’ সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, মধ্যপ্রাচ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বর্তমান সময়ে ইউক্রেন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের রীতিনীতিগুলো কাজ করে না। ইসরায়েলিদের হাতে ফিলিস্তিনি শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়োবৃদ্ধ মানুষগুলো যখন বোমা আর বেয়নেটে ক্ষতবিক্ষত হয়, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আমরা প্রত্যক্ষ করি না। গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর মানবতার সেøাগান সবই তাদের ভেলকিবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার করে, রাজনৈতিক মোড়লিপনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধিই তাদের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই ‘গণতন্ত্র’ নামক বহুকাক্সিক্ষত ইস্যুটিকে পুঁজি করে পিটার হাসের দৌড়ঝাঁপ আমরা লক্ষ্য করেছি।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশে আলোচনাকে সম্মানজনক নয় বলে অভিমত দিয়েছেন। নির্বাচনকে ঘিরে চলমান সংকট অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশে নির্বাচনকে নিয়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে যে অবস্থান জানিয়েছে, তাতে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে; তারা এ ব্যাপারে অন্য দেশের নাক গলানোকে সমর্থন করে না। সে কারণে নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখলে ভারত আরো সক্রিয় হতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। অন্যদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ভারত গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্ট করেছে দেশটি। ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের ‘টু প্লাস টু’ বৈঠকে বাংলাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ভিনয় কোয়াত্রা। তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে সে দেশের মানুষ যেভাবে দেখতে চায়, সেই ‘ভিশন’কে ভারত কঠোরভাবে সমর্থন করে। তিনি আরো বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সে দেশের মানুষই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। ভারতের অবস্থান খুবই স্পষ্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরার বিষয়টিকে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, আমেরিকা যাতে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ না করে, সেই বার্তাই ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের নীতিরই অংশ। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমন কল্যাণ লাহিড়ী মনে করেন, ‘ভারতের পক্ষে বাংলাদেশে একটা স্থিতিশীল সরকার থাকা খুবই জরুরি আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে। সে দেশে ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে শেখ হাসিনা সরকারের ওপরে নানাভাবে চাপ বাড়াচ্ছে, সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েও তারা যুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে, সেগুলো তো ঘটনা।’ তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যাতে তারা বেশি মাথা না ঘামায়, সেটা ভারত স্পষ্ট করে তুলেছে।
২০১১ সালে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ৩ এ (সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে) বলা হয়েছে- (ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা, উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্য হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করবেন না। নির্বাচনকালীন এই ৯০ দিনে সংসদ অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতাও নেই। এ বিষয়ে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের দফা ১ এ বলা হয়েছে- ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফায় উল্লিখিত নব্বই দিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের ষাট দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লিখিতভাবে পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। নির্ধারিত পদ্ধতিতে (দলীয় সরকারের অধীনে) ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (মেয়াদ শেষের আগের ৯০ দিনে) অবশ্যই নির্বাচন হবে, এ বিষয়ে কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলো বেশ তৎপর। আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয় সেই তাগিদ কিন্তু কূটনীতিকরা দিয়ে আসছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানেও রাজনৈতিক মতভেদ নিরসনে নিঃশর্ত সংলাপের তাগিদ এসেছিল। নির্বাচনকালীন ৯০ দিনে বিদ্যমান সরকারের সব ধরনের সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি এ সময়ে প্রশাসন, পুলিশসহ ভোটে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড মনিটরিং করার কথা বলেছেন সিইসি। সিইসি বলেছেন, নির্বাচনের সময় ইসির অবস্থান থাকবে কঠোর। মাঠ কর্মকর্তাদের কাজও পর্যবেক্ষণ করা হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার শিথিলতা সহ্য করা হবে না। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে কাজ করবে; যেমনটা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে হয়েছিল। এ সময়ে সরকার কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন করবে, কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেবে না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশের জনগণসহ বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করবে বলে আমরা মনে করি। একই সঙ্গে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো তাদের জ¦ালাও-পোড়াও এবং সহিংসতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখবে- এটা প্রত্যাশা করতেই পারি।

ড. মো. মোরশেদুল আলম : শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়