সিরিজের শেষ ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ভারত

আগের সংবাদ

নির্বাচন নিয়ে বিদেশি শক্তির অপতৎপরতা কমেনি

পরের সংবাদ

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩ , ২:০৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩ , ২:০৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ থেকে অনেক তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে যেতে আগ্রহী। এসব দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া অন্যতম। উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে এ কথা ঠিক, কিন্তু সে দেশগুলোতে সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও বিদ্যমান। এছাড়া প্রতিটি দেশের আবহাওয়া, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার ধরনও ভিন্ন। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না নিয়ে যখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ওই দেশগুলোতে যায়, তখন তারা অকূল পাথারে পড়ে।
এ দেশের ছেলেমেয়েদের যদি প্রশ্ন করা হয়, কানাডাতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চাও কিনা? তখন তারা অধিকাংশই বলে ‘হ্যাঁ’। বিশেষত বাংলাদেশের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরেই কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোতে যেতে অধিক আগ্রহ দেখা যায়। তাদের বাবা-মাও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করে নিজেদের সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় উন্নত দেশে পাঠাতে চায়। তারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে সন্তানদের পাঠালেও বাস্তবতা অনেক সময়ই স্বপ্নের মতো সহজ ও সুন্দর হয় না। বেশির ভাগ অভিভাবকের আশা থাকে, তাদের ছেলেমেয়ে সেখানে পড়াশোনা শেষ করে ওয়ার্ক পার্মিট পেলে ২-৩ বছর কাজ করবে। পরবর্তী সময়ে সেখানে চিরস্থায়ী নাগরিকত্ব পেয়ে বসবাস করবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য অভিভাবকরা প্রয়োজনীয় কাগজ প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেখানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন, অফার লেটার প্রাপ্তি ও যাওয়া এসব কাজের জন্য বিভিন্ন কনসালটেশন কোম্পানির শরণাপন্ন হয়। কোম্পানিগুলোর কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাদের রঙিন স্বপ্ন দেখায়। তারা আশা দেখায়, ‘টিউশন ফির ব্যবস্থা করা গেলে উন্নত দেশগুলোতে যাওয়ার পর সহজে চাকরি পাবে। পার্ট টাইম চাকরি করে বাসস্থান, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে পারবে।’ কোম্পানিগুলোর এজেন্টরা অনেক ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকে না। জানলেও নিজেদের মুনাফা লাভের জন্য মিথ্যা আশ্বাস দিতে দেখা যায়। প্রত্যেক দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি সময়ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। মৌসুম ভেদে আবহাওয়ারও তারতম্য হয়। এই ব্যাপারগুলো তারা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে জানায় না। এজেন্টরা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০০০ ডলার এর বাজেট নির্ধারণ করে দেয়। এই বাজেট বাস্তবে পর্যাপ্ত না হলে শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়ে। এমনকি অভিভাবকদের মাথায়ও বিরাট বোঝা নেমে আসে। দুঃখের বিষয় হলো, চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাও অতি ক্ষীণ। কানাডার একটি দোকানে বিক্রয়কর্মী নিবে সর্বোচ্চ ৫ জন কিন্তু আবেদন করেছে ২৫০ জন। এ রকম পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা আফসোস করতে থাকে, ‘কেন এলাম? এখন তো চাকরি পাচ্ছি না, বাসা ভাড়া কীভাবে দেব?’ কিন্তু কিছুই করার থাকে না। এর ফলে অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে সম্ভাবনাময় জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ইত্যাদির মতো দেশগুলোতে যাওয়ার প্রস্তুতিপর্বে কনসালটেশন কোম্পানির এজেন্টদের অন্ধভাবে ভরসা না করে নিজেদের খোঁজখবর নিতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক অর্থাৎ ও লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের একা না পাঠিয়ে আত্মীয় আছে এমন দেশে পাঠালে ভালো হয়। অভিভাবকরা সঙ্গে গেলে তাদের বিপথে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসে। অন্তত ১ বছর জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ এবং সক্ষমতা নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য গেলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা কমে আসবে। শিক্ষার্থীরা যে দেশে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করবে, সে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন ঋতুতে আবহাওয়া সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

সুস্মিতা চক্রবর্তী : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়