জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আহ্বান

আগের সংবাদ

হজ প্যাকেজ চার লাখ টাকা নির্ধারণ করতে লিগ্যাল নোটিশ

পরের সংবাদ

সন্তান ফিরে পেতে হাইকোর্টে মার্কিন বাবার আইনী লড়াই

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২৩ , ৭:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২৩ , ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

জাপানি মা নাকানো এরিকো ও ভারতীয় মা সাদিকা সাঈদের পর দুই শিশু সন্তানকে ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন আমেরিকান বাবা গ্যারিসন লুটেল। দীর্ঘদিন সন্তানদের কোনো খোঁজ-খবর না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে। সন্তানদের আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সোমবার (২৮ নভেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট দুই শিশু সন্তানসহ তাদের বাংলাদেশি মা ফারহানা করিমকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার বাংলাদেশী মা ও তার দুই শিশু সন্তানকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আমেরিকান বাবা গ্যারিসন লুটেল এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে দুইদিন তার তিন বছরের ছেলে সন্তানকে দেখতে যেতে পারবেন বলে আদেশ দেন। ঢাকার উত্তরা ক্লাবে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার শিশুর মা ফারহানা করিম শিশুকে নিয়ে আসবেন। সেখানে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শিশু মায়ের তত্ত্বাবধানেই থাকবেন। সেখানে বাবা গ্যারিসন লুটেল সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। তবে আরেক সন্তানের বয়স এক মাস হওয়ায় তাকে দেখার অনুমতির বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত।

এর আগে, মার্কিন বাবা গ্যারিসন লুটেল ও বাংলাদেশি মা ফারহানা করিমের বক্তব্য শোনেন আদালত। রুদ্ধদ্বার কক্ষে তাদের বক্তব্য শোনা হয়। আদালতে সন্তানের বাবা গ্যারিসনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার সজীব মাহমুদ। ফারহানা করিমের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদালত সূত্রে জানা যায়- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ব্যবসায়ী গ্যারিসন লুটেল। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহানা করিমকে ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। ঢাকার উত্তরাতে তাদের বাসা। ফারহানা স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাস করেন। তিন বছর আগে তাদের প্রথম একটি সন্তান হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফারহানা ও গ্যারিসনের নিজস্ব বাসা ছিল। এ বছরের শুরুর দিকে ফারহানা আবার অন্তঃসত্ত্বা হন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জুন মাসে ফারহানা করিম বাংলাদেশে চলে আসেন। অন্তঃসত্ত্বার সময় তার বোন-মায়ের সঙ্গে থাকা জরুরি এই অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে আসেন। আসার পর তিনি গ্যারিসনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। সন্তানদের কথা চিন্তা করে গ্যারিসন ফারহানাকে নিয়মিত টাকা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু পরে দেখলেন, অনেক দিন হয়ে গেছে যোগাযোগ করছে না।

এরপর বেশ কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তিনি অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশে আসার পর গ্যারিসন স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাচ্চাদের দেখতে চাইলে ফারহানা অসযোগীতা করেন। এক পর্যায়ে উত্তরা থানার পুলিশের সহযোগীতায় গ্যারিসন ফারহানার বাসায় যান। বাসায় গিয়ে জানতে পারেন, ফারহানা করিম কানাডিয়ান একজন ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছেন। তিনি কানাডিয়ান ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন।

এদিকে, এক মাস আগে আরেকটি পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন ফারহানা। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, ফারহানা গ্যারিসনকে হাসপাতালের কাগজ দেখিয়ে বলেছেন, দ্বিতীয় সন্তান গ্যারিসনের নয়। এ সন্তান তার পার্টনার কানাডিয়ান নাগরিকের। তিনি একটা ম্যারেজ ডকুমেন্ট দেখিয়ে বলেছেন, কানাডিয়ান নাগরিককে বিয়ে করেছেন। কিন্তু আমেরিকান নাগরিক গ্যারিসনের সঙ্গে তার এখনো ডিভোর্স হয়নি। গ্যারিসনের বাংলাদেশে আসার অন্যতম কারণ, পুরান ঢাকার একজন কাজী যুক্তরাষ্ট্রে একটি কাগজ পাঠায়। সেটি তালাকের নোটিশ। মুসলিম পারিবারিক আইনে একটি তালাকের নোটিশ পাঠান। নোটিশ দেখে গ্যারিসনের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।

গ্যারিসনের আইনজীবী ব্যারিস্টার সজীব মাহমুদ বলেন, আমরা আদালতে বলেছি, নোটিশটা কার্যকারিতা নেই। কারণ তাদের বিয়ে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট অব মিজোরির আইন অনুযায়ী। ডিভোর্স হলে স্টেট আইনে হতে হবে।

এআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়