অ্যাসোসিও পুরষ্কার নিচ্ছেন টেকগারলিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ ওবায়দুর রহমান

সম্মানজনক পুরস্কার পেল বাংলাদেশের আউটস্ট্যান্ডিং টেক ও টেকগারলিক

আগের সংবাদ
সিলেটে মেধা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

সিলেটে মেধা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

পরের সংবাদ

মমতাজের জনপ্রিয়তা তলানীতে

নৌকার মাঝি পরিবর্তন না হলে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০২৩ , ৪:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২৩ , ৫:২৫ অপরাহ্ণ

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। এদিকে মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর-সদরের আংশিক) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। একারণে তার কাছ থেকে সরে গেছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত বেশির ভাগ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা। সংসদীয় আসনের দুই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মমতাজের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারাও প্রকাশ্যে মমতাজের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে প্রার্থী পরিবর্তন না হলে আসনটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম আব্দুল মান্নান লাঙ্গল মার্কায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নৌকার মনোনয়ন পেয়েও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল জোটের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। এর পর তিনি সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। দলের টানা তিনবারের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা দেওয়ান সফিউল আরেফিন বাদ পড়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে মমতাজ একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। টুটুল অনুসারী দলের ত্যাগী নেতারা দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদ থেক বাদ পড়েন। এছাড়া দলীয় কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে পুলিশী হয়রানির শিকার হন টুটুল অনুসারীরা।

টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় দেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামীলীগ। ২০১৪ সালের হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল তৃণমূলে আলোচনায় থাকলেও তার স্থলে মনোনয়ন পান ফোক সুর সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম। তিনি সেবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য মমতাজের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে সংসদীয় এলাকার হরিরামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়মীলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সায়েদুর রহমানের বালু ব্যবসা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও একাধিক মামলা হামলার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চান। এমপির (মমতাজ) বিরুদ্ধে তার জানমালের ক্ষয় ক্ষতির আশংকাও করেন তিনি । ঝিটকা হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের জের ধরে এমপি অনুসারীদের হাতে মারধরের শিকার হন উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। এ প্রসঙ্গে সায়েদুর রহমান বলেন, এ আসন থেকে মমতাজ বেগম এমপি বাদে যে কেউ মনোনয়ন পাক, আমি তার হয়ে কাজ করবো। তবে উনি মনোনয়ন পেলে হরিরামপুর থেকে ব্যালটের মাধ্যমে জনপ্রিয়তার ধস নামিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মমতাজ বেগমের স্বামী ডা. এ,এস.এম মঈন হাসান চঞ্চল গত বছরের ২৩ আগস্ট পারিবারিক কলহের জের ধরে ধল্লা ইউনিয়নের বাস্তা এলাকায় হামলার শিকার হন স্ত্রীর অনুসারীদের হাতে। বিচার না পেয়ে এক বছর পর গত ২৩ আগস্ট নিজের ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে মঈন আহত হওয়া নিজের ছবি, গাড়ি ভাঙচুরের ছবি ও অভিযুক্ত হামলাকারী আকাশ আহমেদ নয়নের সাথে মমতাজের ছবি পোস্ট করেন। বর্তমানে নয়ন সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা বড় পাড়া গ্রামে কেন্দ্রীয় জেপি নেতা সালাম বাহাদুর হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পলাতক রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় মমতাজের অনুসারী নয়ন আসামি হওয়ায় এলাকায় তীব্র বিতর্কের মধ্যে পড়েন তিনি।

এদিকে. গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থী বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে প্রায় ৩০ হাজার ভোটে পরাজিত হন। দুইবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাড. গোলাম মহিউদ্দিন সাত উপজেলার ভোটের ফলাফলে পাশ করলেও মমতাজের উপজেলায় ভরাডুবি ঘটে। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে অনেকটাই ক্ষুব্ধ দলের এ বর্ষীয়ান নেতা। এ নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুর রাজনৈতিক সমাবেশেও বক্তব্য দেন। যা নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। টুলুর পক্ষে দলের হাইকমান্ডে জোর লবিং করছেন জেলার সভাপতি।

সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে ওঠেছে নানা প্রশ্ন। সম্মেলনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পর এক বছর গত ৩০ জুলাই ঘোষিত পুর্নাঙ্গ কমিটিতে স্থান পায় বাবা-ছেলে, জামাই-শশুর, চাচা-ভাতিজা, মামা-ভাগ্নে ও আপন দুই ভাই। জেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল পদে থাকা এক নেতা পেয়েছেন উপজেলা কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ পদ। বহিষ্কৃতরাও পেয়েছেন কমিটিতে স্থান। নতুন এ কমিটির অনেকেই নেই মমতাজের সঙ্গে। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার পর গত দুই মেয়াদে রয়েছেন সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। এবার উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ পেয়েছে কানাডায় অধ্যয়নরত তার ছোট মেয়ে রাইসা রোজ ও নিজের ইউনিয়ন জয়মন্টপ ছাত্রলীগের সভাপতি পদে রয়েছে আপন বড় ভাই এবারত হোসেনের ছেলে ফিরোজ কবির।

অপরদিকে, প্রতিবেশী দেশ ভারতে শক্তি শংকর নামের এক ইভেন্ট অর্গানাইজারের প্রতারণা মামলায় সেখানকার আদালত একাধিকবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন মমতাজের বিরুদ্ধে। পরে নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিলেও সে জামিন আদালতে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপীল করেন মামলার বাদি। সর্বশেষ গত গেলো মাসের ১১ অক্টোবর কলকাতার হাইকোর্টের বিচারক তীর্থঙ্কর ঘোষ এ মামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনকে রিপোর্ট তলব করেন।

এবারের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ-২ আসনে মমতাজ বেগম এমপি, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল, জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু ছাড়াও সিংগাইর উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান খান হান্নান, হাটিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মনির হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার সালাম চৌধুরী মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় জোর লবিং করছেন। তবে এ আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জানান , সারা দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে সেই হিসেবে এ এলাকায় কিছুই হয়নি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাষা শহীদ রফিক সেতুটি টোল মুক্ত হয়নি, এখন পর্যন্ত করা হয়নি মডেল মসজিদ নির্মাণ, প্রসস্থকরণের নামে হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঘটছে সম্পদসহ প্রাণহানি। সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আরো বলেন, নৌকার মাঝি পরিবর্তন না হলে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবানা রয়েছে।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির দাবী করে বলেন, ‘দুই তিন জন চেয়ারম্যান টাকা খেয়ে অন্য প্রার্থীর সাথে ঘুরলেও আমার মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর নৌকার পক্ষে কাজ করবে। কোনো টাকা পয়সা ও খিচুড়ি খাওয়ানো ছাড়াও আমার উঠান বৈঠকগুলোতে ব্যাপক জনসাধারণ উপস্থিত থাকে। নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত দাবী করে তিনি আরো বলেন,সাধারণ ভোটাররা আমার সাথেই আছে।’

প্রসঙ্গত, বিএনপির হাইকমান্ড নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তাদের দলীয় প্রার্থীরা মাঠে নেই। তবে বিএনপি অধ্যুষিত এ আসনে দলের দুই জন হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী হচ্ছে- জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে এস এম আব্দুল মান্নানের মনোনয়নও চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।

এসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়