ইডেনে অভিনব অনুশীলন পাকিস্তানের

আগের সংবাদ

অবরোধে রিজভীর নেতৃত্বে পিকেটিং

পরের সংবাদ

দুপুরে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড

প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০২৩ , ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০২৩ , ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

দেখতে দেখতেই ঘনিয়ে এসেছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ওয়ানডে বিশ্বকাপের। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আজ লিগপর্বে নিজেদের শেষম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। আট ম্যাচে সমান চারটি করে জয় ও হারসহ ৮ পয়েন্ট নিয়ে সেমির দৌড়ে টিকে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে মাত্র দুই জয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে যাওয়া লঙ্কানদের লক্ষ্য আটের মধ্যে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা করে নেয়া। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়।

এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ১০১ বার মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড। এরমধ্যে শ্রীলঙ্কার জয় ৪১টিতে, নিউজিল্যান্ডের জয় ৫১টিতে। ১টি ম্যাচ টাই ও ৮টি পরিত্যক্ত হয়েছে। বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। বিশ্ব মঞ্চে জয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। ৬টিতে জিতেছে তারা। ৫টিতে জয় আছে কিউইদের। তবে অতীতের কোনো পরিসংখ্যানকে আমলে আনতে চাইছেন না কোনো দলই।

ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করেছে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়া। এরপর ৮ ম্যাচে ৪টি করে জয় ও হারে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সেমির দৌড়ে রয়েছে তিনটি দল। ব্ল্যাকক্যাপসদের পাশাপাশি সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানও। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে তিন দলই জিতলে পয়েন্ট হবে সমান ১০ করে। তখন রান রেট বিবেচনায় এগিয়ে থাকা দল সেমিকে খেলার সুযোগ পাবে।
তিন দলই যদি নিজেদের ম্যাচগুলো হেরে যায়, তখনও রান রেট বিবেচনা করা হবে। শেষপর্বের শেষ রাউন্ডে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড এবং আফগানিস্তান খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তবে অন্য দলের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে শেষ ম্যাচ থেকে পূর্ণ ২ পয়েন্ট লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডের।

ম্যাচকে সামনে রেখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দলের পেসার টিম সাউদি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সেমির দৌড়ে আছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। শেষ ম্যাচে ওই দুদলের ম্যাচের ফলাফল কি হবে, তা আমরা জানি না। এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তার আগে আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেটি হলো, নিজেদের ম্যাচে জয় পাওয়া। তাই যে কোনোভাবে আমরা জয় পেতে চাই।’প্রথম চার ম্যাচ জিতে দাপটের সঙ্গে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। এরপর পারফরম্যান্সের ছন্দপতন ঘটে কিউইদের। টানা চার ম্যাচে হেরে যায় তারা। হারের বৃত্তে থাকলেও, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে উঠতে বদ্ধপরিকর নিউজিল্যান্ড।

দলটির তারকা ব্যাটার কনওয়ে বলেন, ‘আমরা শেষ চার ম্যাচে হেরেছি। তারপরও আমাদের আত্মবিশ্বাসে কোনো ছেদ পড়েনি। শেষ ম্যাচে তিন বিভাগেই জ্বলে উঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণ ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে মুখিয়ে আছি আমরা। যে কোনো পরিস্থিতিতে সেরাটা উজার করে দিতে প্রস্তুত দল।’ এদিকে হ্যাটট্রিক হারের পর টানা দুই ম্যাচ জিতে লড়াইয়ে ফিরে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু আবারো হ্যাটট্রিক হারের বৃত্তে বন্দি হয়ে বিশ্বকাপে সেমিতে খেলার স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয় লঙ্কানদের। সর্বশেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ৩ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ‘টাইমড আউট’ হন শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। লঙ্কানদের সাবেক অধিনায়কের ‘টাইমড আউট’ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এখনও বিদ্যমান। তবে এই ইস্যু নিয়ে এখন আর ভাবতে চায় না তারা। ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফি টুর্নামেন্টের দিকে নজর লঙ্কানদের।

ওই আসরে খেলতে হলে বিশ্বকাপে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ আটের মধ্যে থাকতে হবে। বর্তমানে ৮ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টমস্থানে আছে তারা। কিন্তু শেষ ম্যাচে হেরে গেলে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ হারানোর শঙ্কায় পড়বে তারা। জয় পেলে, ভালো অবস্থায় থাকবে তারা। তারপরও অন্যান্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে ১৯৯৬ এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। দলটির ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা বলেন, ‘আমাদের নজর এখন ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ওই আসরে খেলার সুযোগ বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ম্যাচে জিততে হবে আমাদের। হেরে গেলে, খেলার আশা শঙ্কার মুখে পড়েবে। এজন্য শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই আমাদের। আশা করছি, দলের সবাই একত্রে জ্বলে উঠবে।’ আজ বেঙ্গালুরুতে শেষ হাসি হাসবে কারা, তা সময়ই বলে দেবে।

টানা চার ম্যাচ হেরেও সেমির লড়াইয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে নিউজিল্যান্ড। পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থান ধরে রাখার জন্য নিউজিল্যান্ডের সামনে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারানো। এর সঙ্গে পাকিস্তানের ও আফগানিস্তানের হার তাদের একেবারে নিশ্চিন্ত রাখবে। তবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান নিজেদের ম্যাচে জিতলেও চারে থাকতে পারে কিউইরা। তাদের নেট রানরেট বাকি দুই দলের চেয়ে বেশি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১ রানে জিতলেও নিউজিল্যান্ডের রেন রানরেটকে অতিক্রম করতে ইংল্যান্ডকে অন্তত ১৩০ রানে হারাতে হবে পাকিস্তানকে।

আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আফগানিস্তানের বিশাল ব্যবধানে (অন্তত ২৫০ রানে) জিততে হবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে গেলেও সেক্ষেত্রে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান যেন জিততে না পারে সেটাই চাইবে কিউইরা। বিশ্বকাপের শেষ চারের রেসে এখন বাকি আছে আর একটি জায়গা। প্রথম দল হিসেবে ভারতের পর সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়াও। ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হচ্ছে সেটাও নিশ্চিত। বাকি আছে চতুর্থ স্থান। যারা সেমির বড় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে।

এআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়