বিএনপি জামাতের নৈরাজ্য রাজপথে প্রতিহত করা হবে

আগের সংবাদ

ডাচদের বিপক্ষে আফগানদের দাপুটে জয়

পরের সংবাদ

হিমুর আত্মহত্যার সময় পাশেই বসা ছিলেন প্রেমিক জিয়াউদ্দিন

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৩ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০২৩ , ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হোমায়রা হিমু কিছুটা আবেগ প্রবণ ও বিগো অ্যাপস নামে একটি জুয়ার সাইটে আসক্ত ছিলেন। এ অ্যাপসের পেছনে বিগত আড়াই বছরে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করেছেন হিমু। এরমধ্যেই খালাতো বোনের প্রাক্তন স্বামী আটক উরফি জিয়ার সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে মাঝে-মধ্যেই রাজধানী উত্তরার নিজ বাসায় এক সঙ্গে থাকতেন এই প্রেমিক যুগল। বিয়ে নিয়ে কালক্ষেপণ ও ঋণের টাকা পরিশোধসহ নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হতো। বিষয়গুলো নিয়ে ৪ বার আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা করেও পরে এ থেকে সরে আসেন তিনি।

তবে গত বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হলে হিমু তখনও বলেছিলেন তিনি আত্মহত্যা করবেন। এর জন্য ফ্যানের হুকের সঙ্গে দড়িও লাগান তিনি। কিন্তু উরফি বিষয়টিকে পাত্তা দেননি। এক পর্যায়ে খাটে বসে থাকা উরফি জিয়ার সামনেই গলায় ফাঁস দেন হিমু।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আলোচিত জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী হুমায়রা হিমুর আত্মহত্যা হত্যার প্ররোচনা মামলার অন্যতম আসামী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ওরফে উরফি জিয়াকে (৩৭) গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা নুসরাত হিমু আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এ ঘটনায় ঘটনায় ভিকটিম হিমুর খালা বাদী হয়ে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচিত ঘটনায় হওয়া মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) মধ্যরাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে উরফি জিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

উরফিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জিয়া হিমুর উত্তরার বাসায় যায়। পরবর্তীতে অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায় হিমু ভাংচুর করে। একপর্যায়ে রুমের বাহিরে থেকে একটি মই এনে রুমের সিলিং ফ্যান লাগানোর লোহার সঙ্গে পূর্ব থেকে বেঁধে রাখা প্লাস্টিকের রশিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে বলে তাকে জানায়।

গ্রেপ্তারকৃত আরো জানায়, হিমু আগেও ৩-৪ বার আত্মহত্যা করবে বলে জিয়াউদ্দিনকে জানালেও সে পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেনি। এবারও পূর্বের ন্যায় আত্মহত্যা করার ব্যাপারে তাকে জানালে সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। কিন্ত এবারের ঘটনায় হিমু গলায় ফাঁস দিলে উরফি তাকে নামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এ সময় সে পাশের রুমে থাকা ভিকটিম হিমুর মেকআপ আর্টিস্ট মিহিরকে ডেকে আনে।

পরবর্তীতে মিহির রান্নাঘর থেকে একটি বটি এনে রশি কেটে তাকে নিচে নামায়। পরবর্তীতে জিয়াউদ্দিন, বাসার দারোয়ান ও মিহিরের সহায়তায় হিমুকে বাসা থেকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর অভিনেত্রীর আইফোনসহ দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান উরফি।

খন্দকার আল মঈন জানান, মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ‘ও’ লেভেল শেষ করে টেক্সটাইল কেমিক্যাল ব্যবসা করত। ঘটনার দিন হিমুকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করার পর সে তার ২টি আইফোন ও ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে সে ভিকটিমের গাড়ি উত্তরার বাসার পার্কিংয়ে রেখে দেয় ও মোবাইল ফোন ২টি বিক্রির উদ্দেশ্যে রাজধানীর বংশাল এলাকায় পালিয়ে যায়।

এসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়