শরণার্থী বহিষ্কার নিয়ে আফগান-পাকিস্তান বৈঠক

আগের সংবাদ

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভা রবিবার

পরের সংবাদ

পানিতে ভাসছে সিলেট, দুর্ভোগে মানুষ

প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৩ , ১২:৩৬ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০২৩ , ২:২১ অপরাহ্ণ
ভারী বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে সিলেট নগরী

টানা বৃষ্টিতে সিলেট নগরীতে দেখা দিয়েছে মারাত্মক জলাবদ্ধতা। পুরো নগরীর রাস্তাঘাট আর বাসা বাড়িতে উঠে গেছে পানি। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। গেল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে বাসাবাড়িতে হঠাৎ করেই পানি উঠে যায়।

এতে ঘুমন্ত মানুষ পড়ে যান মহা বিপাকে। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন নগরবাসীর মাঝে দেখা দেয় অজানা আতঙ্ক। তিন দিনের টানা বৃষ্টির কারণে নগরীর ছড়া-খালগুলো পানিতে টুইটুম্বুর হয়ে যায়। সুরমা নদীর পানিও বাড়তে থাকে। এরফলে শনিবার নগরীর অধিকাংশ বাসা বাড়িতে পানি প্রবশে করে।

শনিবার (৭ অক্টোবর) টানা বৃষ্টিতে যেন জলমগ্ন হয়ে পড়ে সিলেট নগরী। নগরের বেশিরভাগ এলাকাই পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক, বাসাবাড়ি, দোকান পাট সব যেন পানিতে একাকার। পানি ঢুকে পড়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়ও। বিভিন্ন অফিস আদালতে পানি প্রবেশ করে ম্যূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার খবর মিলেছে।

নগরের অন্যতম উঁচু এলাকা শাহী ঈদগাহ। শুক্রবার রাতেই এই এলাকার বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। এই এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, রাতেই বাসায় পানি ঢুকেছে। সময় সময় পানি বাড়ছে। এ নিয়ে চলতি বছরে তিনবার ঘরে পানি ঢুকল।

ছবি: ভোরের কাগজ

নগরীর ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম শনিবার ভোরে তার ফেইসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। নিজের বাসায় হাটু সমান পানি দেখিয়ে বলেন, টানা বৃষ্টিতে তার বাসার সমস্ত মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। এসময় তার বাসায় হাটু সমান পানি দেখা যায়। বাসার সামনে দেখা যায় পানি থৈ থৈ করছে। অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। নিজের বাসার করুণ অবস্থা দেখিয়ে লাইভে ওয়ার্ডবাসীর নিকট দুঃখ প্রকাশ করেন শামীম। ওয়ার্ডের মানুষের খবর নিতে না পারায় তিনি অনেকটাই ব্যাতীত হন।

কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মহানগরের ছড়া, নালা ও খালগুলো যথাসময়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলেও আমাদেরকে ফের জলাবদ্ধতার শিকার হতে হয়েছে। সুরমা নদী খনন না করলে এ ভোগান্তি থেকে আর রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়।

একইভাবে সিসিকের ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীও শনিবার সকাল ৬ টায় লাইভে এসে তার ওয়ার্ডের চিত্র তুলে ধরেন। একটি রিকসা নিয়ে তিনি ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে ঘুরে সার্বিক চিত্র দেখান। এসময় নগরীর অভিজাত এলাকা হাউজিং এষ্টেট এর রাস্তায় কমর সমান পানি দেখা যায়। যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। বাজার করতে যারা বের হন তাদেরকে হাটু কিংবা কমর সমান পানি ডিঙ্গিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে দেখা যায়।

নগরীর মেজরটিলা এলাকায় সিলেট-তামাবিল সড়কে মাছ ধরতে দেখা যায় কয়েকজন যুবককে। এই এলাকার প্রতিটি গলিতে ছিল হাটু সমান পানি। এছাড়া শাহি ঈদগাহর মতো নগরের উঁচু এলাকা টিলাগড়েরও অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়ে। আর নিচু এলাকার অনেক রাস্তায় কোমর পানি হয়ে যায়। পানিতে নিচতলা তলিয়ে যায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। এতে ব্যাহত হয় স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে। রোগীদের কোলে করে হাসপাতালে প্রবেশ করান স্বজনরা। নীচতলায় পানি উঠে পড়ায় হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা পড়েন বিপাকে।

এই হাসপাতালের চিকিৎসক অরূপ রাউৎ জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এবং সকল ছাত্রাবাসের নিচতলা অবধি পানি উঠে গেছে। হাসপাতালের সামনের সড়কও জলের নিচে। হাঁটু পানি ভেঙেই ডাক্তাররা ডিউটিতে এসেছেন। নগরীর পাঠানটুলা ও মদিনা মার্কেট এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমএজি ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কাজলশাহ, শাহজালাল উপশহর, দরগামহল্লা, কালীঘাট, বাগবাড়ি, কানিশাইল, লামাপাড়া, লালা দিঘিরপাড়, মাছুদিঘিরপাড়, বাদামবাগিছা, শাহপরান, কুয়ারপাড় উপশহর, সোবহানীঘাট, যতরপুর, শিবগঞ্জ, মাছিমপুর, কামালগড় ও দক্ষিণ সুরমার পিরোজপুর, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনসহ সিলেট নগরের বেশিরভাগ এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।

ছবি: ভোরের কাগজ

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো সজিব হোসাইন জানান, শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে শনিবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৩৫৭.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলের তলায় চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসী দোষারোপ করছেন নগর কর্তৃপক্ষকে।

তারা এই জলাবদ্ধতার জন্য সিটি করপোরেশনের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। অনেকে বলছেন, ড্রেনেজ সিস্টেম যদি সঠিক সময় সংস্কার করে রাখা হতো, তাহলে এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না। বারবার এই ভোগান্তির পরও সিসিকের টনক না নড়ায় নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ভারি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যাবে। তিনি বলেন, ড্রেন নালা পরিষ্কার রাখতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। এছাড়া সুরমা নদী খনন করানো জরুরি।

এসএম/এআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়