মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

আগের সংবাদ
চাকরি স্থায়ী না হলে আমরণ অনশনের হুমকি জবি কর্মচারীদের

চাকরি স্থায়ী না হলে আমরণ অনশনের হুমকি জবি কর্মচারীদের

পরের সংবাদ

দুর্নীতি মামলার পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ

বিএনপি নেতা টুকুকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৩ , ৪:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২৩ , ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

দুর্নীতির মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেয়া নয় বছরের সাজা বহাল রেখে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই আদেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতে এই রায় পৌঁছানোর ১৫ দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।

জবুধবার (২৬ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রকাশ করেন।

গত ৩০ মে এক শুনানিতে দুর্নীতির মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানের আপিল খারিজ করে বিচারিক আদালতের সাজার রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৯ বছরের কারাদণ্ড, আমান উল্লাহ আমানের ১৩ বছরের কারাদণ্ড ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানের ৩ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক পৃথক মামলায় তাদের এ সাজা বহাল রাখার রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে আমান উল্লাহ আমান ও তার স্ত্রীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল্লা মামুন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

এর আগে গত গত ১৭ মে দুর্নীতি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে আপিলের পুনঃশুনানি শেষে গত ৩০ মে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়। অন্যদিকে গত ১৪ মে বিএনপির নেতা আমান উল্লাহ আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানের খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে আপিলের পুনঃশুনানি শেষে ৩০ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

জানা যায়, চার কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পত্তির হিসাব ও আয়ের উৎস গোপন করার অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক শাহরিয়ার চৌধুরী ২০০৭ সালের মার্চে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী টুকুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের উপপরিচালক এসএম আখতার হামিদ ভূঞা একই বছরের ২৮ জুন মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত এ মামলার রায়ে টুকুকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে টুকু আপিল করলে ২০১১ সালের ১৫ জুন তাকে খালাস দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি খালাসের রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির আদেশ দেন আপিল বিভাগ। সে অনুযায়ী হাইকোর্টে শুনানি হয়।

অন্যদিকে, সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমান দম্পতির বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। একই বছরের ২১ জুন বিশেষ জজ আদালতের রায়ে আমানকে ১৩ বছরের ও সাবেরাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট তাদের খালাস দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ২৬ মে আপিল বিভাগ সে রায় বাতিল করে হাইকোর্টকে মামলাটির আপিল পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী হাইকোর্টে শুনানি গত ৩০ মে রায় দিয়েছিলেন। আজ টুকুর সাজার পুর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ করে পনেরো দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পনের আদেশ দেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়