বিশ্ববাজারে চিনির দাম নিম্নমুখী, প্রভাব নেই দেশের বাজারে

আগের সংবাদ
সৌদিতে কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদিতে কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

পরের সংবাদ

জ্যোতিদের ভাবনায় এবার ওয়ানডে সিরিজ

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৩ , ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৩ , ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

পাঁচ বছর পর ভারত নারী দলকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হারিয়ে বর্তমানে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নারী দল। আগামীকাল থেকে হোম অব ক্রিকেট মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। বর্তমান সময়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন টাইগ্রেস বোলাররা। ব্যাটাররাও কম-বেশি ছন্দেই আছেন। কেউ না কেউ দলের ক্রান্তিলগ্নে হালটা শক্তহাতেই ধরতে জানেন। তাই আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের ভাবনায় এবার কিভাবে ওয়ানডে সিরিজ রক্ষা করা যায়।

আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে গত বৃহষ্পতিবার ১৭ সদস্যের ওয়ানডে নারী দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এক সিরিজ পরই আসন্ন সিরিজ দিয়ে স্কোয়াডে ফিরেছেন বামহাতি পেসার মারুফা আক্তার।

১তিনি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে একটি করে উইকেট শিকার করেছেন। টপ অর্ডার ব্যাটার শারমিন আক্তার ও অলরাউন্ডার সালমা খাতুনও এক সিরিজ পর দলে ফিরেছেন। ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও স্কোয়াডে জায়গা পাননি অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম। তাছাড়া জাহানারার সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফরের দল থেকে বাদ পড়েছেন আরেক পেসার ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণাও। সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তারা দলে ছিলেন না।

আরেকদিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর এবার ওয়ানডে দলেও জায়গা করে নিয়েছেন মারুফা ও সালমা। ওই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় একটি ক্যাচ ধরতে গিয়ে ঘাড়ে আঘাত পান সোবহানা মোস্তারি। তাকেও রাখা হয়েছে ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে। আসন্ন সিরিজের দলে রাখা হয়নি স্পিনিং অলরাউন্ডর রুমানা আহমেদকে। তাই জাতীয় দলে ফেরার জন্য অন্তত আরো একটি সিরিজ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তার। আগামীকাল ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়ানোর পর বাকি দুই ম্যাচ হবে আগামী ১৯ ও ২২ জুলাই। প্রতিটি ম্যাচই শুরু হবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে।

ক্রিকেটের সকল সংস্করণেই ভারত দল বাংলাদেশের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে। নারীদের ক্রিকেটেও একই চিত্র দেখা যায়। নারীদের ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারত দলের অবস্থান চতুর্থ স্থানে। অন্যদিকে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের অবস্থান ৭ম স্থানে। র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও টাইগ্রেসরা বর্তমান সময়ে লড়াইটা জমিয়ে তুলতে সক্ষম। এই দৃশ্যপটই দেখা গেছে ভারতীয় নারীদের বিপক্ষে টাইগ্রেসদের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। সেদিন বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিট বাজেভাবে ব্যর্থ না হলে সমতায় ফিরে সিরিজ জিততে পারত লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচটিতে দুর্দান্ত বোলিংয়ের মাধ্যমে ২০ ওভারে হারমানপ্রীত কৌরের দলকে মাত্র ৯৫ রানের মধ্যে আটকে রাখে টাইগ্রেসরা। তবে ব্যাটিং ইউনিটের পূর্ণ ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ৮ রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। এই হারের মধ্য দিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তারা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হাতছাড়া করে। শেষ ওভারে বংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১০ রান, বাংলাদেশের হয়ে ক্রিজে ছিলেন নাহিদা-ফাহিমা জুটি। সেই ওভারে শেফালি বর্মাকে দিয়ে বল করিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক। তার নিরীহ স্পিনেও শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচটা হেরে যায় বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ৮৬ রান তোলা বাংলাদেশ শেষ ওভারে ১০ রানের চ্যালেঞ্জ নিতে পারেনি।

সদ্য শেষ হওয়া সিরিজটির তৃতীয় ম্যাচে অবশ্য নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের নারীরা। সেই ম্যাচে হারমানপ্রীতের দলকে মাত্র ১০২ রানে আটকে রেখে ৮ উইকেটের জয় তোলে নিয়েচে জ্যোতির দল।

সফরকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস গড়তে পেরেছিলেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত। তাদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রানের ইনিংস গড়েন রদ্রিগেজ। তাকে ফেরান স্বর্ণা আক্তার। এই দুই ব্যাটার ১০০র ওপর স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়ে রানের গতি ভালো রাখতে পারলেও বাকি ব্যাটাররা রান রেট ঠিক রাখতে পারেননি। সঙ্গে ছোট ইনিংস খেলেই ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। তাই ২০ ওভারে সব উইকেট না হারালেও ভারত ১০২ রানের বেশি করতে পারেনি।

এর আগের ম্যাচে সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেও হারে বাংলাদেশ। সেদিনও সহজ রান তাড়ার শুরুতে ধাক্কা খায় টাইগ্রেসরা। দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাথী রানি। তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। তবে আরেক ওপেনার শামিমা সুলতানা একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান। দ্বিতীয় ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক নিগার সুলতানার সঙ্গে ৪৯ বলে ৪৬ রানের জুাটি গড়েন শামিমা। এই ওপেনারকে ভালো সঙ্গ দিলেও ২০ বলে ১৪ রানে ফেরেন নিগার। এরপর উইকেটে এসে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি মিডল অর্ডার ব্যাটর স্বর্ণা আক্তারও। নিগার ফেরার পরের ওভারেই ৭ বলে ২ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।

স্বর্ণা না পারলেও সুলতানা খাতুন খেলেন ৮ বলে ১২ রানের ঝোড়ো ইনিংস। সুলতানার উইকেটের ঠিক পরের বলেই বাংলাদেশকে আরো চাপে ফেলে দেয় শামীমার রানআউট। ৪৬ বলে ৪২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। শেষ ১৮ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো এবার আর হতাশ করেননি ঋতু মনি ও নাহিদা আক্তার। ১৮.২ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ ওয়ানডে স্কোয়াড: নিগার সুলতানা (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহঅধিনায়ক), মুর্শিদা খাতুন, ফারজানা হক, সোবহানা মুস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, লতা মন্ডল, দিশা বিশ্বাস, মারুফা আক্তার, শারমিন আক্তার, সানজিদা আক্তার, রাবেয়া খান, সুলতানা খাতুন, সালমা খাতুন, ফাহিমা খাতুন, শামিমা সুলতানা।

এসএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়