সাভারের ইউএনওকে হাইকোর্টে তলব

আগের সংবাদ

গরু ও মাংস আমদানির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

পরের সংবাদ

ঈদকে কেন্দ্র করে জাল টাকার কারবারিরা সক্রিয়

প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৩ , ২:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ২০, ২০২৩ , ২:২১ অপরাহ্ণ

# অনলাইনেও বিক্রি হতো জাল টাকা
# দুটি হাটে ছড়ানোর জন্য ২ লাখ জাল টাকা তৈরির অর্ডার পেয়েছিল চক্রটি

রাজধানীর উত্তরখান থানা এলাকা থেকে জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের অন্যতম হোতা শাহজাদা আলমসহ (৩৩) তার অন্যতম ২ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। বাকি দুজন হলো- মো. মাহেদী হাসান (১৯) ও আবু হুরায়রা ওরফে তুষার (২২)।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জালটাকা ক্রয়-বিক্রয়ের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে যেমন- এ গ্রেড জালনোট, টাকা চাই, জালনোট, জালটাকা বিক্রি করি, জাল টাকার ডিলার, জাল টাকা বিক্রয় কেন্দ্র, রিয়েল সেলস্ ও টাকা বিজনেস ইত্যাদি পোস্টে জালটাকা ক্রয়ে আগ্রহী কমেন্টকারীদের সঙ্গে ইনবক্সে যোগাযোগ করতো।

পরবর্তীতে তারা ফোনে যোগাযোগ করে সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে জালটাকা সরবরাহ করে কাজ করে আসছিল। এ চক্রটি বিগত সময়ে জালটাকার বড় ধরনের ৪টি চালান বিক্রি করেছে। আসন্ন ঈদে কমলাপুর ও শাহজাহানপুর হাটে জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ২ লাখ নকল মুদ্রা তৈরির অর্ডার পেয়েছিল তারা। হাটে ছড়ানোর জন্য যারা অর্ডার করেছিল সে সংশ্লিষ্ট নামও পাওয়া গেছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন। মঙ্গলবার (২০ জুন) দুপুরে র‍্যাব ৩ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব সিও-লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শাহজাদা, মাহেদী ও তুষার মিলে গত ৬ মাস ধরে জালটাকার ব্যবসা করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে। ধৃত মাহেদী পূর্ব থেকেই ফটোশপ ও গ্রাফিক্সের ছোটখাট কাজ জানত। সেই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে ইউটিউব থেকে জাল টাকা বানানোর প্রক্রিয়া দেখে এবং ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া দুই বন্ধু শাহজাদা ও তুষারের সহযোগিতায় জালটাকা তৈরির কাজ শুরু করে। শাহজাদা ও তুষার দীর্ঘদিন ধরেই জালটাকা কেনাবেচার কাজ করে আসছে। উপরন্তু মাহেদীকে সঙ্গে নিয়ে তারা এবার জালটাকা বানানোর কাজ শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, প্রথমত অনলাইন থেকে বাংলাদেশি বিভিন্ন নোটের ছবি ডাউনলোড করে তাদের ল্যাপটপে সংরক্ষণ করে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রিন্টারের সাহায্যে প্রিন্ট করে। পরবর্তীতে সেসব ছবিগুলো এ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করে এপিঠ-ওপিঠ সমন্বয় করে লিপি গোল্ডের মোটা ও পিচ্ছিল অফসেট কাগজের উপর এক পাতায় চারটি নোট প্রিন্ট করে। এরপর সেই কাগজে তারা গোল্ডেন কালার মার্কার দিয়ে নিরাপত্তা সুতার আদলে মার্কিং করে। সবশেষে তারা স্টীলের স্কেল এবং এন্টিকাটার এর সাহায্যে জালনোট গুলো কেটে বান্ডেল করে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত করে। এই প্রক্রিয়াটি সূক্ষভাবে সম্পন্ন করতে তারা বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের কাগজ ব্যবহার করে সবশেষ লিপি গোল্ডকে বেছে নেয়। এভাবে ১ লাখ টাকা মুল্যের জাল টাকা তৈরিতে আনুমানিক খরচ হয় ২ হাজার টাকায়।

তিনি আরো বলেন, এসব তৈরিকৃত জালনোট গুলো বিক্রয়ের জন্য শাহজাদা ও তুষার মিলে ফেসবুকে জালটাকা ক্রয়-বিক্রয়ের বিভিন্ন পেজে বিজ্ঞাপন দেয়। পরে ক্রয়ে আগ্রহী কমেন্টকারীদের সাথে ইনবক্সে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে তারা ফোনে যোগাযোগ করে সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে জালটাকা ডেলিভারির কাজ করে থাকে।

আরিফ নহিউদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার শাহজাদা এ চক্রের হোতা। সে পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া থানাধীন এলাকার বোচাগছ গ্রামের মইনুল হকের ছেলে। সে ২০০৮ সালে বিজিবিতে যোগদান করে এবং ২০২০ সালে নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চাকুরীচ্যুত হয়। এরপর থেকে সে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম ও চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সাল থেকে সে জালটাকা প্রস্তুতকারী চক্রের সাথে কাজ করে আসছে বলে জানায়। ২০২৩ সালে জানুয়ারি হতে ফেসবুকে জালটাকা বিক্রির পেজ থেকে পরিচিত হয়ে ধৃত মাহেদী এবং তুষারকে নিয়ে সে নিজেই জালটাকা প্রস্তুতের এই চক্রটি গড়ে তোলে। সেসময় থেকে মাহেদী এবং তুষারকে সে তার উত্তরখানের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। এখান থেকেই তারা তাদের চক্রের পরবর্তী কার্যক্রম চালাতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ভয়ে এরা সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত বাসা ছেড়ে গাজীপুরে আরেকটি ভাড়া বাসায় চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল।

ধৃত তুষার আগে গাজীপুর কাশিমপুরে গার্মেন্টসে চাকুরী করত। সে চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোদমে জালটাকার সরবরাহের কাজ শুরু করে। সে শাহজাদার বাসায় থাকার পাশাপাশি আগের কর্মস্থল গাজীপুর কাশিমপুরে সপ্তাহে ২-৩ দিন গিয়ে জালটাকার বিক্রয়ের জন্য কাস্টমার রেডি করত। এভাবেই তাদের জালটাকার ব্যবসা ও ডেলিভারি চলতে থাকে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়