কম্বোডিয়া থেকে বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন জামালরা

আগের সংবাদ

মেসি আসার আগেই টিকেট নিয়ে হাহাকার

পরের সংবাদ

ফ্রেঞ্চ ওপেনে নারী এককের ফাইনালে মুখোমুখি মুখোভা-সোয়াটেক

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৩ , ৯:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৯, ২০২৩ , ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

ফ্রেঞ্চ ওপেনে নারী এককের প্রথম সেমিফাইনালে অঘটন ঘটিয়ে মেয়েদের র‌্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেনিস তারকা আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছেন চেক প্রজাতন্ত্রের ক্যারোলিনা মুখোভা। অপরদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ব্রাজিলের হাদ্দাদ মায়াকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর টেনিস তারকা ও গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ইগা সোয়াটেক। শিরোপা ঘরে তোলার লড়াইয়ে শনিবার (১০ জুন) সন্ধ্যা সাতটায় মুখোমুখি হবে হবে এই দুই তারকা।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সাবালেঙ্কার সঙ্গে ৩ ঘণ্টা ১৩ মিনিটের কঠিন লড়াই করেন মুখোভা। দীর্ঘ লড়াই শেষে ফলাফল আসে তার পক্ষে। জিতে যান ৭-৬ (৭-৫), ৬-৭ (৫-৭), ৭-৫ ব্যবধানে। র‌্যাঙ্কিংয়ে দুজনের ব্যবধান অনেক। স্বাভাবিকভাবে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪৩ নম্বরে থাকা মুখোভা থেকে ফেভারিট ছিলেন সাবালেঙ্কা। তবে পুরো ম্যাচজুড়ে লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। প্রথম দুই সেটের ফল আসে টাইব্রেকারে। যেখানে প্রথমটিতে জয় পায় মুখোভা। দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাড়িয়ে জয় তুলে নেয় সাবালেঙ্কা। তৃতীয় সেটও সেইদিকে গড়াচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সাবালেঙ্কার প্রতিরোধ ভেঙে জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসেন মুখোভা। জয়ের পর তিনি বলেন, ‘আমি আসলেই জানি না কি ঘটে গেল। এটা অবিশ্বাস্য। লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম আমি এবং এটা কাজে দিল। ভীষণ খুশি আমি। জানি না ২-৫ গেমে পিছিয়ে পড়ার পরে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালাম। আসলে এই প্রতিযোগিতায়, এই কোর্টে এমন একটা পরিবেশে, দর্শকদের উৎসাহের সামনে সবকিছু সহজ হয়ে যায়।’

এর আগে ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিতে পৌঁছেছিলেন ক্যারোলিনা মুখোভা। এছাড়া ২০১৯ ও ২০২০ সালে উইম্বলডনেও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন চেক প্রজাতন্ত্রের এই টেনিস সুন্দরী। তবে কোনোবারই ফাইনালে উঠতে পারেনি। প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের হাতছানি তার সামনে।

অপরদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে হাদ্দাদ মায়াকে ৬-২, ৭-৬ (৯-৭) সেটে হারিয়ে আবারো ফাইনাল নিশ্চিত করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইগা সোয়াটেক। প্রথম সেট সহজেই জিতে যান সোয়াটেক। কিন্তু দ্বিতীয় সেটে দারুণ লড়াই করেন মায়া। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে সেট গড়ায় টাইব্রেকারে। কিন্তু সেখানে শীর্ষ বাঁছাইয়ের সঙ্গে পেরে ওঠেননি তিনি। ফলে টানা দুই সেটে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত হয় সোয়াটেকের। জয়ের পর সোয়াটেক বলেন, ‘এটা সত্যিই আশ্চর্যজনক। সত্যি বলতে এত লম্বা টুর্নামেন্ট খেলা কঠিন এবং আমি খুব খুশি যে আমি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পেরেছি এবং প্রতি বছর এখানে ভালো ফলাফল হচ্ছে, এবং আমি শনিবারের জন্য বেশ রোমাঞ্চিত। এটি সহজ ছিল না। মায়া দারুণ লড়াই করেছে। আমি জানতাম যে প্রতিটি খেলার জন্য আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং এটি গতিবেগ সত্যিই খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে এবং সেই কারণেই আমি টাইব্রেকারে এত ভালো খেলেছি।’

ফ্রেঞ্চ ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সোয়াটেক। এছাড়া র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরেও রয়েছেন তিনি। এবার রোলা গারোতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শিরোপা জয়ের জন্য লড়াই লড়বেন এই তারকা। সাবালেঙ্কার হেরে যাওয়ায় শীর্ষে থাকা নিশ্চিত হয় সোয়াটেকের। টানা ৬২ সপ্তাহ ধরে শীর্ষে রয়েছেন ২২ বছর বয়সি পোলিশ তারকা। এর আগে ২০২০ সালে এই টুর্নামেন্টে প্রথম শিরোপা ঘরে তোলেন তিনি। এবারের আসরেও নারী এককের প্রথম রাউন্ডে সোয়াটেক ৬-৪, ৬-০ সেটে হারান স্পেনের ক্রিস্টিনাকে। এ ম্যাচ জয়ের পর সোয়াটেক বলেছিলেনন, ‘আমি এ কোর্টটা ভালোভাবেই চিনি। সামনের ম্যাচগুলোর দিকেই মনোযোগী হচ্ছি এখন। এবারো শিরোপা জিততে চাই।’

গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনেরে ফাইনালে প্রতিপক্ষকে কোনো পাত্তা না দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি হাতে তোলেন সোয়াটেক। ফাইনালে মার্কিন নারী টেনিস খেলোয়াড় কোকো গফকে ৬-১, ৬-৩ গেমে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো ফরাসি ওপেন চ্যাম্পিয়ন হন। ফাইনালে ওঠার পথে মাত্র একটি সেটে হেরেছিলেন সোয়াটেক। ফাইনালে তিনি আরেকবার বুঝিয়ে দেন কেন তিনি বিশ্বের এক নম্বর।

এবার নারী এককে কোয়ার্টার ফাইনালে কোকো গফকে ৬-৪, ৬-২ সেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন ইগা সোয়াটেক। ম্যাচ শুরুর পর প্রথম সেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় সোয়াটেক ও গফের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি গফ। প্রথম সেটে হেরে যান ৬-২ ব্যবধানে। তবে দ্বিতীয় সেটে তেমন লড়াই করতে পারেননি তিনি। তাকে কোনো সুযোগ না দিয়ে ৬-২ ব্যবধানে সেট জিতে সরাসরি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন সোয়াটেক। তার আগে চতুর্থ রাউন্ডে ইউক্রেনের লেসিয়া সুরেঙ্কোকে সহজেই হারান তিনি। সুরেঙ্কো পুরো ম্যাচ না খেলেই ওয়াকওভার দিয়ে দেন। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় সোয়াটেকের কোয়ার্টার ফাইনাল। ম্যাচে অসুস্থ বোধ করেন সুরেঙ্কা। কোর্টে চিকিৎসক বারবার খেয়ালও রাখছিলেন তার। কিন্তু অস্বস্তি নিয়ে বেশিক্ষণ খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়