মহেশখালী দ্বীপে ভাঙা বেড়িবাঁধ, চিন্তায় উপকূলবাসী

আগের সংবাদ

মোকা মোকাবিলায় প্রস্তুত পুলিশ

পরের সংবাদ

মিজা ফখরুলের হুঁশিয়ারী

সামনে ‘রাজনৈতিক ঝড়’ আসবে

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৩ , ১০:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ১৩, ২০২৩ , ১০:০৫ অপরাহ্ণ

নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানলে সামনে ‘রাজনৈতিক ঝড়’ আসবে বলে সরকারকে সর্তক করে দিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই রাজনৈতিক ঝড় এদেশের মানুষের হৃদয় থেকে নিঃসারিত হয়ে তা সমস্ত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলে ধরে শনিবার (১৩ মে) বিকালে নয়া পল্টনে এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এই সর্তকবার্তা দেন।

তিনি বলেন, ঝড় আসছে, উত্তাল সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসছে এই বাংলাদেশের বুকে। আজকে ঝড় শুধু প্রাকৃতিক ঝড় আসছে সেটা মনে করার কারণ নেই।

সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব পরিস্কার করে বলতে চাই, যারা সরকারে আছেন, যারা সরকার চালাচ্ছেন, এখনো সময় আছে আপনারা মানুষের ভাষা বুঝতে শিখুন, আপনারা মানুষের ভাষা বুঝার চেষ্টা করুন, চোখের ভাষা বুঝার চেষ্টা করুন। অবিলম্বে পদত্যাগ করে তত্ত্ববধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন, গণতন্ত্রকে লক্ষ্য করে। একথা আমরা বার বার বলেছি, আবারো বলছি-পদত্যাগ চাই। যদি সেইভ এক্সিট চান তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে একটা ‍সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

এসময়ে বিএনপির মহাসচিব নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কি এই সরকারের অধীনে নির্বাচন দেখতে চান। তখন নেতা-কর্মীরা ‘না’ সূচক জবাব দিলে তিনি বলেন, তাহলে কিন্তু নির্বাচন রুখে দিতে হবে। শুধু দেখতে চাই না বললে হবে না। যে নির্বাচন এদেশের মানুষ রুখে দেবে-এই কথা বললে তারা (সরকার) বলে আমরা নাকি নির্বাচনের বিরুদ্ধে আছি। কখনোই না। আমরা নির্বাচন চাই। আমরা বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছি আমরা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এসেছি। কিন্তু আমরা সত্যিকার অর্থেই জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকার দেখতে চাই।

ফখরুল বলেন, আজকে এদেশের কিছু বাকি নেই। আজকে অর্থনীতি ধবংস হয়ে গেছে, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা তারা দুর্নীতি করে অর্থ পাচার করে বিদেশে তাদের সম্পদ গড়ে তুলছে, বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করা হয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধবংস করা হয়েছে।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে গায়েবী মামলায় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা, পুলিশি হয়রানি, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফা দাবি আদায় এই সমাবেশ হয়। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এই সমাবেশে যোগ দেয়। দুপুর ২টায় শুরু হওয়া সমাবেশে ফকিরেরপুল থেকে কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরাঁর মোড় পর্যন্ত সড়কে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে জনসভায় রূপ নেয়।

‘বানোয়াট মামলা জনগণ বিভ্রান্ত হবে না’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক আমাদের এদেশকে স্বাধীন করবার জন্য যিনি প্রথম আহ্বান জানিয়েছিলেন, যিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন, যিনি আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন সেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে আসামী করে আওয়ামী লীগ আরেকটা নতুন মামলা দিয়েছে ৪৭ বছর পরে। কেনো? আপনারা যে আন্দোলন করছেন, জনগণ যে আন্দোলন করছে এই আন্দোলনকে ডায়ভার্ট করার জন্য, বিভক্ত করার জন্য এই সমস্ত নতুন ফন্দি-ফিকির শুরু করেছে।

তিনি বলেন, খেয়াল করে দেখুন একই কায়দায় ২০১৮ সালে করেছিলো, একই কায়দায় ২০১৪ সালে করেছিলো এখন আবার যখন নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, যখন জনগণের এই দাবি আজকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আমরা এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই, তখন তারা সেটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সেই মহান নেতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে এই নতুন মামলা দিয়েছে। তখন সেনা প্রধানের নামে মামলা দেননি কেনো। কারণ তিনি আপনাদের দোসর ছিলেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘ আজকে সমাবেশ প্রমাণ করে এদেশের মানুষ এই সরকারের বিদায় চায়। এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করে, দুর্নীতি করে, অর্থ পাচার করে দেশকে ধবংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে দেখা যায়, আজকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিকভাবে বৈষ্যম সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশকে ধবংস থেকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ তার ভোটের অধিকার চায়। চট্টগ্রামের একটা উপ নির্বাচন হয়েছে সেখানে ১৪ শতাংশ মানুষও ভোট দিতে যায়নি। গণতন্ত্র ধবংসকারী সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে হবে। এছাড়া জনগণের কাছে কোনো বিকল্প নাই।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা ইদানিং একটা কথা বেশি করে বলছেন যে, বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, তারা ভিন্ন পথে ক্ষমতায় আসতে চায়। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি ভিন্নপথে ক্ষমতায় আসার কথা কখনো চিন্তাও করে না, কখনো ভিন্নপথে ক্ষমতায় আসেও নাই। জনগণ আজকে এটা বুঝে জানে যে, আওয়ামী লীগ ভিন্ন পথে ক্ষমতায় পাকাপোক্ত করতে চান।

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা আগামী দিনে ভোট চুরির জন্য দেশে-বিদেশে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। মিথ্যাচার করে বিদেশীদের গ্রহনযোগ্যতা আদায়ের অপচেষ্টা করছে।

যুক্তরাজ্য সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর কোনো দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক হয়নি। কিন্তু সরকার বাংলাদেশের হাইকমিশনকে দিয়ে একটি মিথ্যা প্রেসরিলিজ প্রচার করেছে যা সঠিক নয়। আমরা বলতে চাই, এভাবে মিথ্যাচার করে বিদেশীদের কাছে থেকে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যাবে না।

মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিনের রফিকুল আলম মজনু‘র সঞ্চালনায় সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল মালেক রতন, মীর সরাফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, রকিবুল ইসলাম বুকুল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

মহানগর বিএনপির যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানি, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, মহানগর দক্ষিণের তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের আবদুর রাজ্জাক, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, ছাত্র দলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমূখ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, আহমেদ আজম খান, হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ, রফিকুল ইসলাম, শিরিন সুলতানা, তাবিথ আউয়ালসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়