মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশনের উপপ্রধান নিহত

আগের সংবাদ

সেলফি তুলতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু, কারণ খুঁজছে পুলিশ

পরের সংবাদ

৫ বছর পর জন্মভূমিতে ঈদের নামাজ আদায় বিএনপি নেতা স্বপনের

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৩ , ১০:৪৮ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০২৩ , ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ সরকারের রক্তচক্ষুকে উপক্ষো করে দীর্ঘ ৫ বছর পর নিজ জন্মভূমি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকলের মটিতে ঈদের নামাজ আদায় করলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান, বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জননেতা এম. জহির উদ্দিন স্বপন।

শনিবার (২২ এপ্রিল) সকালে বরিশাল শহরের বাস ভবন থেকে সড়ক পথে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি সরিকল গ্রামের নিজ বাড়িতে এসে পৌছেন। একটি প্রাইভেট কার একটি মাইক্রোবাস ও সামনে-পিছনে শতাধিক মোটরসাইকেলের একটি বিরাট বহর নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা তাকে বরিশাল শহর থেকে নিরাপদে নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌছে দেন। এই দৃশ্য তখন লাইভ করা হয়। বাড়িতে পৌছে সেখানে অপেক্ষমান বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন। পরে ওই নেতাকর্মীদেরকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সরিকল গ্রামে তাদের সামাজিক ঈদগাহ মাঠে যান। সেখানে সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে উপস্থিত হয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আগামীর আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য দলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানান। এরপর দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ওই ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে হাজার হাজার নেতাকর্মীবেষ্টিত হয়ে পায়ে হেঁটে পুনরায় তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সঙ্গে নিয়ে তার মরহুম মা-বাবা ও পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি তার নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে সকাল ১০টার দিকে বরিশাল শহরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান।

সরিকল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধা বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারা আমাদের নেতা স্বপন ভাইকে এলাকায় প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়। তারা হুমকি দেয় যে, তিনি এলাকায় ঢুকলে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে আক্রমণ চালিয়ে এলাকায় রক্তের বন্যা বইয়ে দেবে। সম্ভাব্য রক্তপাত এড়াতে আমাদের নেতা এতদিন এলাকায় আসেননি। দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি ঘোষিত আগামীর আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করায় নেতাকর্মীদের মনে সাহস যোগাতে এবার তিনি সরকারি দল আওয়ামী লীগের হুমকি, ধামকি ও রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করলেন। এলাকায় ফিরে তিনি পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করলেন, নিজের মরহুম মা-বাবা ও পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করলেন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে ফিরে গেলেন। এতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা দারুণ উজ্জীবিত হয়েছে।

বিএনপি নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধা অভিযোগকে অস্বীকার করে সরিকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন আকন বলেন, আওয়ামী লীগের কেউ প্রতিরোধের কথা বলেছে বলে আমার জানা নেই। সেতো নির্বিঘ্নে এসে ঈদের নামাজ পড়ে চলে গেল। আওয়ামী লীগ যদি কোনো হুমকি দিত। তাহলে তো আজ তাকে বাঁধা দিত। বিএনপি মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমাদের কোন লোকজন তো তার আসা যাওয়ায় বাধা দেয়নি।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়