‘ধূমকেতু’ ছবির নির্মাতা শফিক হাসান গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস আজ

পরের সংবাদ

৩ আসনে নৌকা জয়ী বাকি ৩টিতে অন্যরা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৩ , ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৩ , ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ

১৫-৩০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে : সিইসি

বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া ৬টি উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের ৩ জন প্রার্থী। বগুড়া-৬ আসনে আওয়ামী লীগের রাগেবুল আহসান রিপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আব্দুল ওয়াদুদ জয়ী হয়েছেন। বাকি ৩টি আসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদ্য পদত্যাগী বিএনপির আবদুস সাত্তার, বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) মহাজোটের প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন ও ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপির এমপিদের পদত্যাগে শূন্য হওয়া ৬ সংসদীয় আসনে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে এ ভোটগ্রহণ চলে। যদিও আর্থিক অনটনের কারণে ইসি এবারের ভোট সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করতে পারেনি। ভোটগ্রহণে বড় কোনো গোলযোগ না হলেও কেন্দ্রে বোমা রাখা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভোটারদের ভোট দিতে বাধাদান, কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোট দিতে প্ররোচনা দেয়াসহ বেশ কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ৬ আসনের উপনির্বাচনে কোনো ভোট ডাকাতি হয়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। তবে ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল, ভোটের হার ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট শেষে ঢাকায় নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ব্যাপক অনিয়ম, ভোট ডাকাতি হয়েছে- এমন কোনো তথ্য পাইনি। আমরা বলব, সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে ভোট। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৭ শতাধিক কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হয়। এ নির্বাচনে কোথাও সিসি ক্যামেরা ছিল না। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটকেন্দ্রের বাইরে বোমাবাজি ছাড়া সারাদিন আলোচনার মূল বিষয় ছিল ভোটারস্বল্পতা।

সিইসি বলেন, উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। আনুমানিক ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ হতে পারে। এটা নিশ্চিত করে এখনো বলা যাবে না, অপেক্ষা করতে হবে। উপস্থিতি কম কেন, সেই ব্যাখ্যায় সিইসি বলেন, কাক্সিক্ষত মাত্রায় প্রতিদ্ব›িদ্বতা না হওয়ায় উপস্থিতি কম ও নিরুত্তাপ হতে পারে।

তিনি বলেন, অনিয়ম বা কারচুপির উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিষয়ে নজর রেখেছি, সেখানেও বিরূপ কোনো তথ্য পরিবেশিত হতে দেখিনি। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে তথ্য পেয়েছি, দুয়েকটি জায়গায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। একটি তাজা ককটেল পাওয়া গেছে। দুয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে যেটা কেন্দ্রের বাইরে।

অনেক কেন্দ্রে ভোটকক্ষে অবাঞ্ছিত লোকের উপস্থিতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, দুয়েকটি কেন্দ্রে এমন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। একটি কেন্দ্রে এক ভদ্রমহিলা তার দুটো বাচ্চাকে নিয়ে ঢুকেছে, আরেকটি জায়গায় এক ভদ্রমহিলা অসুস্থ ভোটারকে সহায়তা করতে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। এগুলো হতে পারে। আমরা এগুলোকে খুব গুরুতর বা ব্যাপক (অনিয়ম) মনে করছি না, যেটা ভোটের ফলাফলকে পাল্টে দিতে পারে। ওই ধরনের ঘটনা মনে হয়নি। কিন্তু মুহূর্তে মুহূর্তে গণমাধ্যমে এখান থেকে দেখছিলাম- এমন কিছু দেখিনি যে ভোটকেন্দ্রে ভোট ডাকাতি হচ্ছে, ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। সেদিক থেকে আমরা বলব সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছে ভোট।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তায় সন্তোষ প্রকাশ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সফল ও অর্থবহ করার বিষয়ে কমিশনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগের সমাবেশে বিএনপির সংসদ সদস্যরা একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পরদিন তারা সংসদ ভবনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দপ্তরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর ফলে এ আসন ৬টি শূন্য ঘোষণা করে ইসি।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়