সরকার গণদুশমনে পরিণত হয়েছে

আগের সংবাদ

আগামীতে সব নির্বাচনে অংশ নেবে জাপা

পরের সংবাদ

গণভবনে দলীয় সভায় শেখ হাসিনা

দেশে গুম-খুনের সংস্কৃতি চালু করে জিয়া

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২২ , ৭:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৭, ২০২২ , ৯:১৮ অপরাহ্ণ

জিয়াউর রহমান দেশে গুমের সংস্কৃতি চালু করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, উপমহাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠনগুলির মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি। আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির অধিকার-সংগ্রামের চেতনা নিয়েই গড়ে উঠেছে। প্রথমে মুসলীম লীগ গঠন করা। পরবর্তীতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শুধুমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামকরণ করা হয়। এই সংগঠন গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৫৭ সালে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে এই সংগঠনটি গড়ে তুলেন। গ্রামে-গঞ্চে ঘুরে ঘুরে তিনি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছিলেন। সংগঠনের মাধ্যমেই তিনি দেশের মানুষকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। জাতির পিতার সেই আদর্শ নিয়েই আওয়ামী লীগ এগিয়ে চলেছে। তার ডাকে সারা দিয়েই এদেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগই গঠনতন্ত্র মেনে সংগঠন করে। এখন পর্যন্ত গঠনতন্ত্র আমরা অনুসরণ করি। আর কোনো দল বিশেষ করে মিলিটারি ডিকটেটরদের পকেট থেকে যেসব দল বেরিয়েছে। তাদের মধ্যে সেই ধারাটা কিন্তু পাবেন না। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে তারাই আবার গণতন্ত্রের কথা বলে। যাদের জন্মই হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, মার্শাল-ল এর মধ্য দিয়ে তারাই আবার আমাদের গণতন্ত্রের ছবক দেয়, পরামর্শ দেয়- গণতন্ত্র না কী প্রতিষ্ঠিত করবে। মার্শাল ল দিয়ে, সারারাত কারফিউ দিয়ে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে- তারা গণতন্ত্রটা কীভাবে দেয় আর কিসের গণতন্ত্র দেয়- সেটা আমরা বুঝি না। আমাদের দেশে কিছু মানুষ নিজেদেরকে বুদ্ধিজীবি বলে পরিচয় দেয়। জ্ঞানী-গুণী বলে পরিচয় দেয়, তাদেরও মুখে শুনি গণতন্ত্র না কী আনতে হবে দেশে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে- যারা মিলিটারি ডিকটরদের সময় মার্শাল ল দিয়ে যারা রাষ্ট্র চালিয়েছিল, সেটাইকেই কী তারা গণতন্ত্র বলতে চায় না কী? ওটাই কী গণতন্ত্রের ধারা ছিল না কী? তারা খোলাসা করেই তো বলতে পারে- তারা তো সে কথাটা বলে না।

শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমওতিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন থেকে সরকার গঠন করেছে। তখন থেকেই এদেশের গণতান্ত্রিক ধারাটাই অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগই জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করা, ভাতের অধিকার রক্ষা করা, দেশের মানুষের আর্থসামাজিক নিশ্চিত করা, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য একমাত্র আওয়ামী লীগই করেছে। অর্থাৎ অধিকারগুলি নিশ্চিত হয়েছে। পঁচাত্তরের পর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, একমাত্র তখনই মানুষ গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে কি হয়েছিল? ‘৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসে। জনগণ আন্দোলন করে তাকে দেড় মাসের মাথায় ক্ষমতা থেকে টেনে নামায়। সেই নির্বাচনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। ৩০ শে মার্চ খালেদা জিয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় ভোট চুরির অপরাধে। সেসময় গণতন্ত্র কোথায় ছিল?

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ভোট চুরির অপরাধে বিএনপিকে দুইবার সরে যেতে হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি আর ওয়ান ইলেভেনের আগে ২২ জানুয়ারী নির্বাচন। ওয়ান ইলেভেনে জরুরী অবস্থা জারি হলো। সবার আগে আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো। খালেদা জিয়ার ১২টা মামলা। এরপর ইমার্জেন্সি সরকার আরো ৪টা দিল। আমি বলেছি প্রত্যেকটা মামলা তদন্ত করতে হবে। আমার ছেলের বউয়ের সন্তান হয়েছে বলে দেখতে গেলাম তাকে। আমাকে আর দেশে ঢুকতে দেবে না। প্রত্যেকটা আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে বলে দেয়া হলো আমাকে যেন আর দেশে ফিরতে না দেয়া হয়। আমি প্রতিবাদ করলাম আমেরিকায় বসে। সেখান থেকে লন্ডনে চলে এসে প্রতিবাদ করলাম। তখন আর্ন্তজাতিক চাপ ও দেশের ভেতরে আমাদের নেতাকর্মী, শিক্ষক, ছাত্র প্রতিবাদ করল। তারা বাধ্য হয়ে আমাকে দেশে আসতে দিল। এরপর আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো। ক্ষমতায় ছিল খালেদা জিয়া। আর গ্রেপ্তার করল আমাকে।

শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠক। ছবি: পিএমওতিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চাপ ও দেশের মানুষ ফুঁসে ওঠার ফলে নির্বাচন দিল তত্বাবধায়ক সরকার। আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হলো। আর বিএনপি মাত্র ৩০টা সিট পেল। সেই নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তাহলে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি প্রশ্ন তুলে কোন মুখে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এখনো গণতন্ত্রের খোঁজ করে। মনে হয় যেন দূরবীন দিয়ে তারা গণতন্ত্র দেখতেছে। তাদের কাছে জিজ্ঞাসা- বাংলাদেশের এই ৫০ বছরে জাতির পিতার সাড়ে ৩ বছর আর আওয়ামী লীগের সময় ছাড়া কখন গণতন্ত্র ছিল। ক্ষমতা তো ছিল ক্যান্টনমেন্টের ভেতর বন্দী। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া সবাই তো ক্যান্টনমেন্টে বন্দী। সেখান থেকেই চালানো হতো দেশ। তো গণতন্ত্র অর্থাৎ জনগনের সম্পৃক্ততা কোথায়? জনগনের তো শক্তি ছিল না। শক্তি তাদের হাতে ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এ ধরনের কথা বলেন। তাদেরকে বলব ২০০৮ সালের বাংলাদেশ দেখেন আর এখন বাংলাদেশ দেখেন। ডিজিটাল দেশ হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি। সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করেছি। ভূমিহীনদের ঘর করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধাদর সম্মান দিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়তে পেরেছি।

২২তম জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে বৈঠকে বসে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সম্মেলনের আগে জাতীয় কমিটির বৈঠক করে আওয়ামী লীগ। এই বৈঠকেই দলের জাতীয় সম্মেলনের বাজেট অনুমোদন করা হয়। জাতীয় সম্মেলনে পাস করানোর জন্য দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের খসড়া নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এছাড়াও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় এবং শুদ্ধি অভিযান সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয় বৈঠকে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সব সদস্য জাতীয় কমিটিরও সদস্য। প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার একজন প্রতিনিধি এই কমিটির সদস্য। এর বাইরে দলের সভাপতি ২১ জন সদস্য মনোনীত করেন। সব মিলিয়ে জাতীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৮০ জন।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়