৪ দিনে ২ হাজার ২২৬টি অভিযান, গ্রেপ্তার ১৩০৯

আগের সংবাদ

৯ ডিসেম্বর থেকে খেলা শুরু হবে

পরের সংবাদ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আপিল শুনানি শুরু

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২২ , ১২:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২২ , ১২:৪০ অপরাহ্ণ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিচারিক আদালতের রায়ের ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে। বিচারিক আদালতের রায়ের প্রায় চার বছর পর বিচারপতি শহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল সোমবার এই শুনানি শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলার এফআইআর পড়ার পর চার্জশিটের কিছু অংশ পড়া হয়েছে। আগামী দুদিনের মধ্যে চার্জশিট পড়া শেষ হবে। আশা করছি, উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আগামী বছরের প্রথম দিকেই মামলাটি শেষ হবে। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বহাল থাকবে বলেও আশা করছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা।

দেশ-বিদেশে তোলপাড় করা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এই হামলার ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও ভূমি উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরো ১১ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এরপর একই বছরের ২৭ নভেম্বর দুই মামলার রায়সহ প্রায় ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়।

২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি মামলায় আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য আমলে নিয়ে দ্রুত পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক তৈরি হয়। মামলাটি হাইকোর্টে আসার পর ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট পেপারবুক প্রস্তুত হয়। এরপর সেটা যাচাই-বাছাই করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ মামলায় বিচারিক আদালতের রায়টি অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য। আমাদের প্রত্যাশা, বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার শুনানিতে সব আসামির বিষয়েই বক্তব্য থাকবে। তবে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে কোনো আপিল দেখেননি জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ওনার যেহেতু কোনো আপিল নেই, সুতরাং ওনার বিষয়টি আসবে না।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ মামলা করেন। সে সময়ের ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার প্রকৃত আসামিদের বাঁচিয়ে নির্দোষ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর চেষ্টা করে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে পুরো দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ২০০৮ সালের ১১ জুন দেয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

তখন জানা যায়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হামলার ছক করা হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে এসেছিল হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর আরো ৩০ জনকে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ফলে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জনে।

এসএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়