র‌্যাব অ্যাওয়ার্ড পেলেন ভোরের কাগজের সাংবাদিক ইমরান রহমান

আগের সংবাদ

আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্মরণ

পরের সংবাদ

রান খরায় শান্ত-মুমিনুল

প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২২ , ১১:৪৪ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৩, ২০২২ , ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

‘দিনের পর রাত, রাতের পর দিন’ ও নদীর এপার ভাঙে ওপার গড়ে’। দুইটি প্রবাদই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য যথার্থ। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে জোয়ার-ভাটার মতো টাইগার ক্রিকেটারদের ছন্দের উত্থান-পতন ঘটে। এক ম্যাচ ভালো খেললে পরবর্তী একাধিক ম্যাচে তাকে আর আপন ছন্দে খুঁজে পাওয়া যায় না। বিদ্যুতের মতো হঠাৎ করে ফর্মহীন হয়ে পড়া টাইগার ক্রিকেটারদের ফিরে আসার জন্য বারবার সুযোগ দিতে হয় বোর্ডের। এরপরও ছন্দে ফিরতে না পারলে তাদের বিকল্প খুঁজতে আরো কয়েক সিরিজ অন্যান্য ক্রিকেটারদের পরীক্ষা করা হয়। আধুনিক বিশ্বে প্রতিযোগিতার মধ্যে এ রকম দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় দলের একাদশ সাজাতে হলে সহজে সাফল্য না আসাই স্বাভাবিক। টাইগার শিবিরে ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হিসেবে একের পর এক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকারসহ আরো বেশ কয়েক জনের। তবে স্বল্পস্থায়ী ফর্মের জন্য কেউই নিজেদের জায়গা স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। এরপর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেটে এখনো পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য ব্যাটার পায়নি বিসিবি। দ্বিতীয় উইকেটের অবস্থানে বর্তমানে ব্যাট হাতে নামে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক মুমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে কয়েক বছর মুমিনুল হক দলকে স্বস্তিতে রাখলেও টানা ছয় ইনিংস ধরে ব্যর্থ তিনি। সেই সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্তও নেই ছন্দে। জাতীয় দলের এই তরুণ ক্রিকেটারের সাদা পোশাকে অভিষেক হয়েছে ২০১৭ সালে। এরপর ১৬ ম্যাচে খেলেছেন ৩০ ইনিংস। সাদা পোশাকে নিজের নামের পাশে ২টি হাফসেঞ্চুরি ও ২টি সেঞ্চুরির সাহায্যে লিখিয়েছেন ৮১৮ রান।

নাজমুল হোসেন শান্ত

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে করেছেন ১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে ৬৪ রান। দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংসে ৪০ রান। দুই টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম দিকেই। এরপর বেশ কিছুদিন সাদা পোশাকে দলে জায়গা পাননি তিনি। ২০২০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আবারো দলে ফিরেন তিনি। এরপর থেকে নিয়মিত দ্বিতীয় উইকেটে নিজেকে সেট করার চেষ্টায় আছেন। তার চেষ্টার আজ তিন বছর। এই তিন বছরে নয় ইনিংসে পেয়েছেন মাত্র দুটি হাফসেঞ্চুরি। ২০২০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দলে ফেরার ম্যাচে প্রথম ইনিংসে করেছেন ৪৪ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৩৮ রান। পরের সিরিজে এক ইনিংস ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে খেলেছেন ৭১ রানের ইনিংস। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছেন মাত্র ২ রান। গত বছরের শেষের দিকে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৭ রানেই সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছেন ৩৩ রান। চলতি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না শান্ত। চট্টগ্রাম টেস্টে তামিম, জয়, মুশফিক, লিটনের ব্যাট হাসলেও মাত্র ১ রান নিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। চট্টগ্রাম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। তবে ঢাকা টেস্টে প্রথম দিনে টাইগারদের ব্যাটিং লাইন আপে যে ধস নেমেছে সেই ধসের মধ্যে পতিত হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তও। চট্টগ্রাম টেস্টে ২২ বলে খেলেছেন ১ রান।  সোমবার মিরপুরে ২১ বলে করেছেন ৮ রান। এরপর রাজিথার বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরেছেন সাজঘরে। দলের প্রয়োজনীয় সময়েও নিজের প্রমাণ দিতে পারেননি বাঁ-হাতি এই ব্যাটার।

শুধু শান্তই নয়, নিউজিল্যান্ড সফরের পর থেকে ছন্দে নেই সাদা পোশাকের অধিনায়ক মুমিনুল হকও। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয় ম্যাচের শুরুতেই সাজঘরে ফিরেছেন। নিজেদের নামের পাশে কোনো রান যোগ করারও অবকাশ পাননি। সেখানে তৃতীয় উইকেটে ব্যাটিংয়ে নামা অধিনায়ক মুমিনুল হকের ওপরই ম্যাচ বাঁচানোর দায়িত্ব পড়েছিল। কিন্তু তিনি সেখানেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করেছেন মাত্র ৯ রান। দুই চারের সাহায্যে উইকেটে থিতু হওয়ার আভাস দেয়া সত্ত্বেও নবম বলেই সাজঘরে ফিরেন তিনি। আসিথা ফার্নান্দোর বল তার ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষক ডিকওয়ালার গ্লাভসে। সেই সঙ্গে রান ছন্দে ফেরার সম্ভাবনাও মুছে গেছে টাইগার অধিনায়কের। সর্বশেষ তার ব্যাটে রান এসেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ জয়ের দিন। বছর পরিবর্তনের সময়কালে কিউইদের বিপক্ষে ৮৮ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই মুমিনুলকে সাদা পোশাকে আর স্বরূপে দেখা যায়নি। প্রথম ম্যাচে ৮৮ করলেও দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথম ইনিংসে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। এরপর ফলোঅনে পরে দ্বিতীয় ম্যাচে করেছেন ৩৩ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ব্যাট হাসেনি তার। যার জন্য প্রোটিয়া সফরের সমালোচনার শীর্ষে ছিল তারই নাম। অধিনায়ক হিসেবে ক্যারিয়ারে বাজে ম্যাচ খেলেছেন এই সিরিজে। প্রথম টেস্টে করেছেন ২ রান এবং দ্বিতীয় টেস্টে কোনোভাবে ১১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছেন। দুই টেস্ট মিলিয়ে করেছেন মাত্র ১৩ রান। যেখানে প্রোটিয়া অধিনায়কের ছিল ২২৭ রান। আজ থেকে শুরু হওয়া মিরপুর টেস্টে জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অপেক্ষায়ও সফল হননি টাইগার অধিনায়ক।

রি-এসএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়