খালেদার বিদেশে চিকিৎসা, বিএনপির গণঅনশন শনিবার

আগের সংবাদ

তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা মোদীর

পরের সংবাদ

সারা দেশে নদী দখলদার ৬৫ হাজার ১২৭ জন

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২১ , ২:১১ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০২১ , ২:১৪ অপরাহ্ণ

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা করেছে। সারা দেশে ৬৫ হাজার ১২৭ জন অবৈধ নদী দখলদার রয়েছে। দখলদারদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে সারা দেশে অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৪ জন অবৈধ নদী দখলদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সদস্য বেনজীর আহমদ।

লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, দেশের বিভিন্ন নদীর তীরভূমি থেকে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৪৪৩টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে ৭২৩.৬২ একর তীরভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। দেশের নদীগুলো দখলমুক্ত করতে ২০১০ সাল থেকে অভিযান শুরু করা হয়।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, নদী দখল রোধে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। নদীর তীরভূমি পুনর্দখল রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে নদীর উভয় তীরে ওয়াকওয়ে, আরসিসি স্টেপস, বসার বেঞ্চ, বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ, নদীর পাড় বাঁধাই, গাইড ওয়াল নির্মাণ, বৃক্ষ রোপণ ইত্যাদি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকার চারদিকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ১১০ কিলোমিটার বৃত্তাকার নৌপথের দুই তীরে অবস্থিত ২২০ কিলোমিটার তীরভূমিতে প্রথম পর্যায়ে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে এবং দুটি ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে, জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। ওই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী নদীবন্দর এলাকায় চার হাজার সীমানা পিলার নির্মিত হয়েছে এবং দেড় হাজার সীমানা পিলারের নির্মাণকাজ চলমান। তিনি আরো বলেন, এ ছাড়া রামচন্দ্রপুর থেকে বসিলা এবং রায়েরবাজার খাল থেকে কামরাঙ্গীর চর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মিত হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৮ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের মধ্যে ২৭ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। ২১ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের দরপত্র ৯ নভেম্বর গ্রহণ করা হয়েছে। টঙ্গী নদীবন্দর এলাকায় একটি ইকোপার্ক নির্মিত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, তৃতীয় পর্যায়ে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃক ‘ঢাকা শহরের চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে, জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়)’  শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। ঢাকা শহরের চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে সীমানা পিলার স্থাপন করায় অবৈধ দখল হ্রাস পেয়েছে। সীমানা পিলার স্থাপনকাজ সম্পন্ন হলে অবৈধ দখল সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের নৌ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের শুকিয়ে যাওয়া এবং মৃতপ্রায় ৪৭টি নদী ড্রেজিং করে তিন হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হয়েছে। এ ছাড়া মোট ৩৮টি ড্রেজার এবং ১৬৮টি ড্রেজার সহায়ক জলযান সংগ্রহ করা হয়েছে। আরো ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ডি-ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়