বোয়ালখালীতে পূজার প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে আগুনে গৃহবধূর মৃত্যু

আগের সংবাদ

মৃণ্ময়ী রূপী চিন্ময়ী মায়ের আগমনী বার্তা

পরের সংবাদ

চায়না দুয়ারিতে ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২১ , ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০২১ , ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরসহ আশপাশের উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাছ শিকারের অবৈধ জাল চায়না দুয়ারি। আর এ জালের ফাঁদ দিয়ে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করছে একটি চক্র। চায়না দুয়ারির ফাঁদে পড়ে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

জানা যায়, চায়না দুয়ারি হচ্ছে মাছ ধরার এক ধরনের ফাঁদ। গোলাকার ও চতুর্ভুক্ত কাঠামো আকৃতির চারপাশে চায়না জাল দিয়ে এই ফাঁদ তৈরি করা হয়। এটি ৫২ হাত থেকে ৭০ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের চায়না জাল। আর জালটি মাছের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই জালে যদি মাছের ডিম প্রবেশ করে তাহলে সেই ডিমও আটকা পড়ে। এছাড়া চায়না দুয়ারি নদীর পানিপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে। এই জালের ছিদ্র ছোট হওয়ায় ছোট বড় কোনো মাছ বের হওয়ার সুযোগ পায় না। ফলে মাছের বংশ বিস্তারে বিঘ্ন ঘটে।

চায়না দুয়ারির মাধ্যমে দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা ও মাথাভাঙা নদীতে কিছু অর্থলোভী মৎস্য শিকারি নির্বিঘ্নে মাছ ধরছেন, এমন তথ্য উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কাছেও আছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারি, রামকৃষ্ণপুর, খলিসাকুণ্ডি ও প্রাগপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এই চায়না দুয়ারি ফাঁদ দিয়ে ধরা দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা বিক্রি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিলমারি ইউনিয়নের এক মাছ শিকারি জানান, চায়না দুয়ারি নদীর তলদেশে বসানো হয়। উভয় দিক থেকে ছুটে চলা যে কোনো মাছ সহজেই এতে আটকা পড়ে। একবার মাছ ঢুকে পড়লে বের হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। মাথাভাঙা নদীর এক মাছ শিকারি জানান, নদীতে যে জায়গায় এই ফাঁদ পাতা হয় তার ওপর থেকে চিহ্ন রাখতে বাঁশের খুঁটি বসানো হয়। যা দেখে সহজে বোঝা যায়, সেখানে চায়না দুয়ারি পাতা হয়েছে।

উপজেলার পদ্মা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরেন এমন কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রকারভেদে চায়না দুয়ারির দাম ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। তবে আগে এর দাম কিছুটা কম ছিল। এখন ব্যবহার বাড়ায় দামও বেড়েছে। দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চায়না দুয়ারি তৈরি হলেও দামে সাশ্রয় হওয়ায় পার্শ্ববর্তী রাজশাহী ও কুষ্টিয়া জেলা শহর থেকেই বেশি কেনা হয় বলে জানিয়েছেন মৎস্য শিকারিরা।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ বলেন, আমার ইউনিয়নে জেলেরা চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকার করছেন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লুকিয়ে ওই মাছের বংশ ধ্বংসের ফাঁদ অধিক মূল্যে বিক্রি় করে আসছেন। তবে এর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা অবৈধ জাল চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করবো।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, চায়না দুয়ারি দেশীয় জাতের মাছ ধ্বংস করছে এটি সত্যি। এই ফাঁদ প্রতিরোধ করতে জেলার সব উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলেদের নিরুৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

রি-এসআরএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়