মেয়র আতিক ডিএনসিসির দায়িত্ব নিচ্ছেন আজ

আগের সংবাদ

চরম খাদ্যসংকটে ৬৪ শতাংশ শিশুর পরিবার

পরের সংবাদ

করোনায় অর্থ সংকটে ১২ সিটি করপোরেশন

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২০ , ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ১৩, ২০২০ , ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
স্থানীয় সরকার বিভাগ

রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা
অর্থ সহায়তা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন
বেতন-ভাতা পরিশোধেও অনিশ্চয়তা
নাজুক পরিস্থিতি চট্টগ্রাম সিটির

টানা দেড় মাসের লকডাউন বা ছুটিতে রাজস্ব আয়ে বড় ধাক্কায় দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন। বেশির ভাগ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধে বেগ পেতে হচ্ছে। অর্থ সহায়তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছে কোনো কোনো সংস্থা। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সংকটে ১০টি সিটি। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অর্থ সংকট নেই। দক্ষিণে কোনো রকম। সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। এছাড়া খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সিলেট, রাজশাহী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি। তবে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। এসব সংস্থার অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস হোল্ডিং ট্যাক্স, লাইসেন্স, বাজার সেলামি, বিজ্ঞাপন, প্রমোদকরসহ মোট ৯টি খাত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরে মোট রাজস্ব আয় টার্গেট ৮৫৬ কোটি টাকা। মার্চ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৩৫৯ কোটি। হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ৩৫০ কোটি টাকা টার্গেট হলেও আদায় ১৫৬ কোটি। ট্রেড লাইসেন্স খাতে টার্গেট ৯ কোটি, আদায় ৫২ লাখ। মার্কেট খাতে টার্গেট ৩৫ কোটি, আদায় ১৯ কোটি। বাজার সেলামিতে টার্গেট ৩১০ কোটি, আদায় ৬১ কোটি। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে মোট ৮ হাজার ৩০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে ডিএসসিসির। এরমধ্যে স্থায়ী প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন। তাদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে দেয়া হয় প্রায় ২৩ কোটি টাকা। আর ঈদ বোনাস বাবদ প্রায় ৭ কোটি টাকা। ডিএসসিসির এপ্রিলের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ হলেও মে মাস নিয়ে সংশয়ে সংস্থাটি।

ডিএসসিরি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সর্দার ভোরের কাগজকে বলেন, এই মুহূর্ত আর্থিক সংকট তেমন নেই। মার্চের শুরু থেকেই ট্যাক্স আদায় বন্ধ। ফান্ডে যা টাকা ছিল, তা দিয়ে এপ্রিলের বেতন-ভাতাসহ ঈদ বোনাস দিয়েছি। জুন মাসে কয়েকদিন সময় পেলে রাজস্ব আদায় হবে। লকডাউন বা ছুটি দীর্ঘায়িত হলে তা সম্ভব হবে না। তখন সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

রাজস্ব ঘাটতি নেই ঢাকা উত্তর সিটিতে : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে রাজস্ব আয়ের কোনো ঘাটতি নেই। সংস্থাটির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, ডিএনসিসির নাগরিকরা নিয়মিত ট্যাক্স দেন। ছুটির থাকায় রাজস্ব আদায় বন্ধ। তবে অর্থের ঘাটতি নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ হয়েছে। ফান্ডে যে টাকা আছে তা দিয়ে আগামী ৫ থেকে ৬ মাস কোনো সমস্যা হবে না।
বেতন-ভাতা দিতে পারছে না চসিক : আর্থিক সংকট আরো প্রকট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। অনিশ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধও। গত মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করতে পারেনি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ এখন সংস্থাটি।

চসিকের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, আমাদের আয়ের খাত দুটি। একটি উন্নয়ন খাতে সরকারের বরাদ্দ, আরেকটি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়। রাজস্ব আদায় দিয়ে স্টাফদের বেতন দেয়া হয়। এপ্রিলে কোনো আয় হয়নি। চলতে অর্থবছরে ২৪ মার্চ পর্যন্ত ২১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা আয় হয়েছে। শুধু গৃাহক বাবদ আয় ১০৫ কোটি। ১১ কোটি আসে হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস এখনো দিতে পারিনি। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা আদায়ের চেষ্টা চলছে। সমস্যার কথা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে চসিকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে। তাদের মাসিক বেতন-ভাতা প্রায় ২০ কোটি টাকা। ঈদ বোনাস সাড়ে ৫ কোটি টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থ সহায়তা চেয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও সচিবকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

রাসিক সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় বন্ধ। চলতি অর্থবছরে রাসিকের রাজস্ব আদায়ের টার্গেট ৭০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত আদায় ৩০ কোটি। সাড়ে ৫০০ স্থায়ী আর আড়াই হাজার অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী। রাজস্ব কর্মকর্তা এএসএম নূর-ই-সাঈদ বলেন, সংস্থার নিজস্ব আয় থেকে প্রায় সোয়া ৪ কোটি টাকা স্টাফদের বেতন দিতে হয়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা যথাসময়ে তা পরিশোধ করছি। চলতি মাসের বেতনও ২২ মের মধ্যে দেয়ার ইচ্ছা আছে। তবে আমাদের সমস্যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানাব। তিনি আরো বলেন, করোনার মধ্যেও নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম চলছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব যাতে না ছড়ায় সেজন্য আমরা সতর্ক আছি।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটেও থমকে আছে বেশিরভাগ কার্যক্রম। আদায় হচ্ছে না রাজস্ব। রয়েছে আর্থিক ঘাটতি। সিলেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, আমাদের ৪৫০ জন স্থায়ী ও ৫৩০ জন অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে। বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এপ্রিলের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস দেয়া হয়েছে। মে মাসে কঠিন হতে পারে। চলতি অর্থ বছরে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে ৬০ ভাগ। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হেলাল উদ্দিন আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেন, কোনো সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বেতন-ভাতার জন্য অর্থ সহায়তার লিখিত আবেদন আমরা পাইনি। মৌখিকভাবে দুয়েকটি সিটি করপোরেশন সমস্যার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো বরাদ্দ সাধারণ দেয়া হয় না। প্রধানমন্ত্রী যদি বিশেষ কোনো বরাদ্দ দেন সেক্ষেত্রে দেয়া সম্ভব।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়